ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলিন্ডারে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ, উৎপাদন সংকটে নারায়ণগঞ্জের দেড়শ ডাইং কারখানা

সিলিন্ডারে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ, উৎপাদন সংকটে নারায়ণগঞ্জের দেড়শ ডাইং কারখানা
×

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৬

গ্যাস-সংকটে আগে থেকেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল নারায়ণগঞ্জের ডাইং কারখানাগুলোতে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস এনে কোনোভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নতুন নির্দেশনার পর সেই পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার দেড় শতাধিক ডাইং কারখানার উৎপাদন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

গত ২৬ জুলাই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক বিধান চন্দ্র মৈত্র সিএনজি স্টেশনগুলোকে এক নির্দেশনায় যানবাহন ছাড়া খোলা সিলিন্ডার বা ক্যাসকেড সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে সিএনজি সরবরাহ না করতে বলেন। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, এভাবে সিএনজি বিক্রি বাংলাদেশ গ্যাস আইন ও গ্যাস বিপণন বিধিমালা ২০২৬ এর পরিপন্থী এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

এর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার বিকেলে নগরের নতুন জেলখানা এলাকার একটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ডাইং কারখানার গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যান গ্যাস নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরেই এভাবে গ্যাস নিতে গেলে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। সোমবার তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি নির্দেশনার কারণে আর সিলিন্ডারে গ্যাস দেওয়া হবে না।

ওই সিএনজি স্টেশনের প্রকৌশলী সৈয়দ এলতাজ হাসান বাদশা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই এভাবে গ্যাস সরবরাহ করত না। এখন সরকারি নির্দেশনার বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক কারখানায় দিনে গড়ে তিন ঘণ্টাও উৎপাদন চালানো যাচ্ছে না। ডাইং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়ায় মাঝপথে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদিত কাপড়ের মান নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এত দিন অনেক কারখানা সিলিন্ডারে সিএনজি এনে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছিল। নতুন নির্দেশনার পর সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সমিতিভুক্ত প্রায় দেড় শতাধিক ডাইং কারখানার অধিকাংশের উৎপাদন প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অনেক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

তবে গ্যাস-সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার শুরু করেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। আড়াইহাজারের মিথিলা টেক্সটাইল অ্যান্ড ওভেন ডাইং লিমিটেড বায়োমাস বা ধানের তুষ দিয়ে কারখানা পরিচালনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুব খান হিমেল বলেন, কয়েক বছর ধরেই গ্যাস-সংকট চলায় তারা আগেই বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করেছিলেন। সে কারণে তাদের উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে পাইপলাইনে গ্যাস না থাকা এবং সিলিন্ডারে সিএনজি সংগ্রহের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ ডাইং কারখানা এখন চরম সংকটে পড়েছে।

আরও পড়ুন

×