১০ লাখ টাকার প্রতিশ্রুতি, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর পেলেন ৫০ হাজার
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৬:১৩
১০ লাখ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক দিনমজুরকে নেপালে নিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দেশে ফিরিয়ে মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতিশ্রুত অর্থ না পেয়ে শরীরের অঙ্গহানির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
মামলার বাদী গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়া। গত ১৩ জুন তিনি জয়পুরহাটের আমলি আদালত-৫–এ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পরদিন মামলাটি কালাই থানায় মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন-সংক্রান্ত আইনে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীকে কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া ও জয়পুরহাটের কয়েকজনকে দালাল হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মন্টু মিয়া অভিযোগ করেন, দারিদ্র্য ও ঋণের চাপে পড়ার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে বলা হয়, এক নারী রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিডনির প্রয়োজন এবং একটি কিডনি দিলে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এ প্রস্তাবে রাজি হলে তার পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে অগ্রিম হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
এর কয়েক দিন পর তাকে ভারত হয়ে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। কিছুদিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও প্রতিশ্রুত ১০ লাখ টাকার বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মন্টু মিয়ার ভাষ্য, বারবার যোগাযোগ করেও বাকি টাকা পাননি। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা অর্থ লেনদেনের বিষয়টিই অস্বীকার করেন। এরপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
মন্টু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকে তিনি আগের মতো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে।
জয়পুরহাট আদালতের আইনজীবী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কাউকে বিদেশে নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন করানো অত্যন্ত গুরুতর ও সংঘবদ্ধ অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট
- মামলা
- জয়পুরহাট
- দিনমজুর