ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পা নেই, দুই হাতে ভর করে জীবন-সংগ্রাম

পা নেই, দুই হাতে ভর করে জীবন-সংগ্রাম
×

নৌকায় যাত্রী পারাপার করে সংসার চলে আলাউদ্দিনের। মঙ্গলবার তোলা সমকাল

 উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘পা নেই তো কি হইছে, আল্লাহ হাত দুইখান তো এখনও ভালো রাইখছে। এই হাত দিয়াই কাজ কইরা খাই, সংসার চালাই, কারুর কাছে হাত পাতিনা।’ মনে চাপা কষ্ট থাকলেও অনেক দৃঢ়তা নিয়ে কথাগুলো বললেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আলাউদ্দিন মণ্ডল।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামের দিনমজুর সোবাহান মণ্ডলের ছেলে আলাউদ্দিন। চলনবিল বেষ্টিত নিচু এলাকায় তাঁর গ্রামের অবস্থান। পাশাপাশি রয়েছে ভাটবেড়া ও নন্দবেড়া গ্রাম। বছরের বেশির ভাগ সময় এসব গ্রামে পানি থাকে। গ্রামের লোকজনকে কাজে যেতে নৌকায় করে পাশের উঁচু সড়কে আসতে হয়। আলাউদ্দিন তাঁর ডিঙি নৌকায় করে গ্রামের লোকজনকে পারাপার করেন। নৌকার আয় দিয়েই স্ত্রী, দুই ছেলে মেয়েসহ চার সদস্যের পরিবার পরিচালনা করেন তিনি। দুই পা অবশ থাকায় শুধু দুই হাতে নৌকার বৈঠা বেয়েই চলছে তাঁর জীবন সংগ্রাম।
আলাউদ্দিনের বয়স যখন ১৩ তখন তিনি পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। বাবা সোবাহান মণ্ডল ছেলের চিকিৎসার জন্য মাঠে থাকা ৩৫ শতক ফসলি জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করান। কিন্তু এতে কোনো ফল হয়নি। আস্তে আস্তে আলাউদ্দিনের দুই পা অবশ হয়ে যায়। 
আলাউদ্দিন জানান, তারা সাত ভাই। ভাইয়েরা বিয়ে করে সবাই আলাদা হয়ে যান। তাঁকে নিয়ে বিপদে পড়েন মা-বাবা। এ অবস্থায় বাবার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকতে চাননি তিনি। এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় বৈঠা দিয়ে নৌকা চালানো শিখেন। বাবা ধার দেনা করে তাঁকে একটা ডিঙি নৌকা বানিয়ে দেন। সেই নৌকা দিয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু। 
তিনি বলেন, সারাদিন নৌকা চালিয়ে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় রোজগার হয়। এতে কোনো মতে চলে সংসার চলে যায়। তবে বয়স ৫০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো হাত চলে না। একটি ইঞ্চিন চালিত নৌকার ব্যবস্থা হলে তিনি বৈঠা বাওয়া থেকে মুক্ত হতেন, পাশাপাশি আয় রোজগারও বেশি হতো।

আরও পড়ুন

×