নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি
ধর্মপাশায় কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত বিতর্কিত কিন্ডারগার্টেন। মঙ্গলবার তোলা সমকাল
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৪ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৩৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দুজন কর্মচারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামের একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ওই কিন্ডারগার্টেন থেকে তাঁরা নিয়মিত বেতন-ভাতাও উত্তোলন করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সমকালে ওই কিন্ডারগার্টেনে দেওয়া টিআর বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের টিআর বরাদ্দ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুসন্ধানকালেই বর্তমান বিষয়টি সামনে আসে। এরপর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী, কলেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নানা মহলে সমালোচনা বাড়তে থাকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্তরা উপজেলার বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে কর্মরত। এর মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বশির আহম্মদ ওই কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. রোকনুজ্জামান ও অফিস সহকারী আকমল হোসেন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে কলেজের একটি টিনশেড ঘরে কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে ওই কিন্ডারগার্টেনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে বশির আহম্মদ, রোকনুজ্জামান, আকমল হোসেনসহ ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। ক্লাস রুটিন অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পাঠদান চলে ওই কিন্ডারগার্টেনে। তবে বশির আহম্মদ দাবি করেছেন, সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয়; পরে তাঁরা কলেজের কাজে যোগ দেন।
কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.১৭ (ক) ধারা অনুযায়ী–এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে কিংবা কোনো আর্থিক লাভজনক পদে (সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা কিংবা আইন পেশা) নিয়োজিত থাকার সুযোগ নেই। যদি কারও বিরুদ্ধে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
ওই কিন্ডারগার্টেন থেকে অভিযুক্ত তিনজনই বেতন-ভাতা নেন জানিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বশির আহম্মদ বলেন, ‘অবশ্যই (কিন্ডারগার্টেনে) কাজ করতে পারি। নীতিমালায় এমনটি বলা নেই যে কলেজ টাইমের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করতে পারব না। এমনটি অনেকেই করছে। গত (২০২৫) এমপিও নীতিমালা অনুমোদন হয়নি, বাতিল হয়ে গেছে।’ তবে কবে বাতিল হয়েছে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে পারেননি।
কিন্ডারগার্টেনে কাজ করার সুযোগ আছে জানিয়ে আরেক অভিযুক্ত মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এই নীতিমালা (এমপিও নীতিমালা ২০২৫) তারা পাননি। এ সময় উল্টো প্রতিবেদককে প্রশ্নের মুখে ফেলার চেষ্টা করেন তারা। তিনি আরও বলেন, ২০ বছর ধরে কলকাকলী বিদ্যাপীঠ নামের প্রতিষ্ঠানটি কলেজের অভ্যন্তরে পরিচালিত হচ্ছে। এর অনুমোদন ও রেজুলেশন সবই আছে। এই কিন্ডারগার্টেন নিয়ে এতো আলোচনা কেন তা তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নীতিমালা পরিপন্থি কিনা জানেন না দাবি করে বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ট্যাঁকণ কান্তি তালুকদার বলেন, ১০টার মধ্যে তাঁরা (ওই শিক্ষক-কর্মচারী) কলেজে চলে আসেন। এতে করে কলেজের পাঠদান বা অন্যান্য কাজে ব্যাঘাত ঘটে না। বিষয়টি যদি এমপিও নীতিমালা পরিপন্থি হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যালয়ের আঞ্চলিক উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালা এখনও বলবৎ আছে। দুই জায়গায় বেতন নিয়ে
তাঁরা (শিক্ষক-কর্মচারী) এটি করতে পারেন না। এমনটি হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী গভর্নিং বডি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কলেজ ক্যাম্পাসে আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে কিনা–তার ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।
- বিষয় :
- কলেজ