ডালে ডালে ফিরছে বাবুই পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ
তালগাছের ডালে ডালে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। সম্প্রতি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী চৌমুহনী বাজার-রঙ্গামাটি সড়কের পাশ থেকে তোলা সমকাল
মুসা মিয়া, হাকিমপুর (দিনাজপুর)
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেঠো সড়কের পাশে সারি সারি তালগাছ। এসব তালগাছে ঝুলছে বাবুই পাখির বাসা। একসময় এটি ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য। পরিবেশ-জলবায়ুর পরিবর্তন, তালগাছ কমতে থাকা ও কৃষিজমিতে কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারে সেই দৃশ্য ধীরে ধীরে চলে যায় মানুষের নজরের আড়ালে। সম্প্রতি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরের হাকিমপুরে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তালগাছে বাসা বাঁধছে বাবুই। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ; পরিবেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।
সম্প্রতি উপজেলার খট্টামাধবপাড়া, বোয়ালদাড় ও আলীহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুই শতাধিক তালগাছে বাবুই পাখির বাসা নজরে আসে। কোনো গাছে ১০টি, কোনো গাছে ২০টিরও বেশি বাসা দেখা গেছে। সকাল-বিকেল পাখির কিচিরমিচির আর বাসা তৈরির ব্যস্ততা নজর কাড়ছে পথচারীদের। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। পরে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে।
আলীহাট ইউনিয়নের জাংগই গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, ‘গাছের ডালে সারি সারি বাবুই পাখির বাসা দেখে মনটা ভালো হয়ে যায়। পাখিগুলোর কিচিরমিচির ডাক শুনতে শুনতে কাজের পথে এগিয়ে যাই। এই দৃশ্য আমাদের গ্রামের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।’
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাতনী পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের বাড়ির সামনে রয়েছে একটি বড় পুকুর। পুকুরপাড়ে থাকা ছয়টি তালগাছ তাঁর চোখের সামনেই বড় হয়েছে। গাছগুলোর ডালে বাবুই পাখি বাসা বেঁধেছে। গত শনিবার তিনি বলেন, ‘দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি এখনও মানুষকে ভালোবাসে। ছোটবেলায় এই পুকুরপাড়ে বসে কত পাখির ডাক শুনেছি! বয়স বাড়লেও প্রতিদিন তালগাছের দিকে তাকিয়ে থাকি।’
হাকিমপুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহেববুর রহমানের মতে, তালগাছ কেটে ফেলা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে বাবুই পাখির সংখ্যা কমে গিয়েছিল। কিছু এলাকায় পরিবেশ অনুকূলে এসেছে। তাই পাখিগুলো ফিরে আসছে।
পাখিপ্রেমী মতিয়ার রহমান বলেন, ‘তালগাছের ডালে ডালে বাবুইয়ের বাসা দুলতে দেখে সত্যিই মন ভরে যায়। পাখির কিচিরমিচির ও বাসা তৈরির দৃশ্য প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্য।’ তালগাছসহ দেশীয় গাছ সংরক্ষণ করে পাখির নিরাপদ আবাস নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
বাবুই পাখিকে কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেজবাহুর রহমান বলেন, পোকামাকড় খেয়ে এই পাখি ফসলের ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তারা বিভিন্ন সড়কের পাশে অন্তত এক হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুনতামির মামুন বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাখির বাসা নষ্ট ও তাদের বিরক্ত না করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
- বিষয় :
- পাখি