ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী

প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত: রিজভী
×

রুহুল কবির রিজভী। ছবি: ফাইল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৪ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৪

সরকার পরিবর্তনের পরে প্রশাসনে নিজেদের লোক নিয়োগ বহির্বিশ্বেও প্রচলিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন সরকার নিজেদের লোক নিয়োগ দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও প্রচলিত। 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েলস সিস্টেমে’র উদাহরণ দিয়ে রিজভী বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার পদে নতুন নিয়োগ হয়। এটি বেআইনি নয়। এটিও রাষ্ট্র চালানোর একটি প্রক্রিয়ার অংশ। 

আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জামায়াতে ইসলামী সরকারগঠন করলে নিয়োগে বড় অনিয়ম হবে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দলীয়করণ ঘটবে। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সময়ে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এটি স্পষ্ট হয়েছে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতির সমালোচনা করে রিজাভী বলেন, তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা হওয়া উচিত প্রগতিশীল ও অগ্রগামী। দেশকে নতুন কিছু দেওয়ার প্রত্যয় থেকেই তরুণদের রাজনীতি করা উচিত। কিন্তু তরুণদের দল এনসিপি একটি পশ্চাদমুখী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করেছেন। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকেও এটি সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

রাজনীতিতে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতির প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাতেন। আমরা তাকে ফ্যাসিস্ট ও খুনি বলেছি, কিন্তু কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করিনি। এখন কিছু তরুণ নেতার বক্তব্যে যে ভাষা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র, সভ্যতা কিংবা উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সহায়ক নয়। এই ভাষা শেখ হাসিনার অপসংস্কৃতিরই প্রতিফলন। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের উচিত সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না করে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।


আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী। সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম, অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খালেকুজ্জামান মিজান, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, রাজশাহী সিটি করেপারেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী এশা প্রমুখ।
 

আরও পড়ুন

×