ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহাদেও নদে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন

মহাদেও নদে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন
×

কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোনা এলাকায় মহাদেও নদে বালু উত্তোলন। ছবি: সমকা

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৪ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৮

কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোনা বাজার-সংলগ্ন মহাদেও নদে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের অভিযান ও নানা উদ্যোগের পরও থামছে না বালু উত্তোলন। স্থানীয় একটি চক্র নৌকা দিয়ে দিন-রাত নদের তলদেশ থেকে বালু তুলে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদের পারের বসতবাড়ি।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, বরুয়াকোনা পয়েন্টে ১০ থেকে ১২টি নৌকায় শ্রমিকরা বাঁশ ও বালতি দিয়ে মহাদেও নদের তলদেশ থেকে বালু তুলছেন। পরে নৌকায় করে সেই বালু উপজেলার বাইরে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মহাদেও নদের তীরবর্তী নল্লাপাড়া, ওমরগাঁও, কালিহালা, ডাইয়ারকান্দা, বৈদ্যগাঁও, চকপাড়া, চিনাহালা ও নয়নাগড় এলাকায় বালু স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রলি ও ড্রামট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেজার ব্যবহার না হলেও অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত বালু তোলার কারণে নদের তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। নদের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুই তীরে ভাঙন তীব্র হচ্ছে। ইতোমধ্যে নদে বিলীন হয়েছে বহু ফসলি জমি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরুয়াকোনা বাজারের এক বাসিন্দা বলেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০-৬০ নৌকা বালু নিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি ঢল নামলে শতাধিক বড় নৌকা আসে। শুধু কলমাকান্দার নয়, পাশের উপজেলার নৌকাও এখানে বালু তোলে। বাধা দিলে প্রভাবশালীদের নাম বলে উল্টো হুমকি দেয়।  নল্লাপাড়ার রসুখাঁ সেতু এবং ওমরগাঁও নল্লাপাড়া কালভার্টের মুখে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা গেলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী জানান, মহাদেও নদ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে তাঁর বসতবাড়ি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষায় তাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাবে। 

নল্লাপাড়া গ্রামের রসুখাঁ সেতু-সংলগ্ন বাসিন্দা জমিলা খাতুন বলেন, ‘দিন-রাত ইঞ্জিনচালিত নৌকার ঢেউয়ে আমাদের বসতভিটা ভেঙে যাচ্ছে। বিকট শব্দে রাতে ঘুমাতে পারি না। আমরা কি এর কোনো প্রতিকার পাব না?’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং উপজেলা প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ভূমি অফিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

নৌকার শ্রমিক আক্কাছ আলী বলেন, ‘আমরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা বুঝি না, বুঝি পেটের দায়। আমার মতো হাজারো শ্রমিক না খেয়ে থাকবে– এটাই কী চান আপনারা?’

রংছাতি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলী আজগরের ভাষ্য, প্রশাসনের নির্দেশে রসুখাঁ সেতুর নিচে লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বড় বড় স্টিল বডির নৌকা ধাক্কা দিয়ে তা ভেঙে ফেলেছে। তারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে দিয়েই যাতায়াত করে। মৌখিকভাবে নিষেধ করলে শোনে না। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শামছুজ্জামান আসিফ বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা ও সাজা দেওয়া হয়েছে। মহাদেও নদে অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×