গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
‘আমার মৃত্যুর জন্য স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি দায়ী’
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১০
পাবনার ঈশ্বরদীতে মেঘনা খাতুন (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের আগে একটি ভিডিও বার্তায় ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্বামী আজম, শাশুড়ি, শ্বশুর ও আসলাম দায়ী। স্বামী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত এবং সে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। একপর্যায়ে আজম (নিহতের স্বামী) আমার গলা টিপে ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেয়।’
সোমবার ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিওতে গৃহবধূ মেঘনা নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বামীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো। অনেক ভালোবেসে পরিবার ছেড়ে তোমার কাছে এসেছিলাম, মানসিক যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না।’
মেঘনা খাতুন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার হারুন উর রশিদের মেয়ে এবং ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শফি মণ্ডলের ছেলে গোলাম আজম আলী মণ্ডলের স্ত্রী।
পারিবারিক কলহের জেরে গত শনিবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মেঘনা খাতুন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি ফেরার পর সোমবার তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গোলাম আজম মুঠোফোনে মেঘনার গলায় ফাঁস দেওয়ার খবর মেঘনার বাবার পরিবারকে জানান। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মেঘনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার বাবা হারুন উর রশিদ। তিনি তার মেয়ের এমন মৃত্যুর ঘটনায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও স্থানীয়ভাবে তদন্ত করার পর অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- পাবনা
- ঈশ্বরদী
- গৃহবধূ
- ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার