বিদ্যুতের ৭২ খুঁটি রেখেই সড়ক উন্নয়ন কাজ, ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল
ছবি- সমকাল
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৩:৫৪
রূপগঞ্জের মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে আছে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ৭২টি খুঁটি। প্রায় দুই বছর ধরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মধ্যে চিঠি চালাচালি হলেও খুঁটিগুলো অপসারণ শুরু হয়নি। আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও ঝুঁকিমুক্ত নয় সড়কটি। প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ঘটছে দুর্ঘটনা এবং দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তার মাঝখানে এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বড় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও নির্মাণকাজেও লাগছে বাড়তি পরিবহন খরচ।
জানা গেছে, রূপগঞ্জের ৩০০ ফুট সড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস ব্যবহারকারীদের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মায়ারবাড়ি থেকে ডাঙ্গা পর্যন্ত ২৪ ফুট প্রশস্ত আরসিসি সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। গাজীপুর ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে নেওয়া এই প্রকল্পের দায়িত্ব পায় সাগর ইনফো বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই সড়কের মাঝখানে ও দুই পাশে থাকা ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের ৭২টি খুঁটি অপসারণ না করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সড়কের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও খুঁটিগুলো একই জায়গায় রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সংযোগ সড়কের জেড-২০৪৩ চেইনেজ এলাকার উভয়পাশে থাকা প্রায় ৭২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এবং নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আবেদন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ খুঁটি স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিমান্ড লেটারও পাঠায়। কিন্তু প্রায় দুই বছর পার হলেও খুঁটি অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় না থাকায় এখন জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কের পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
ট্রাকচালক আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, সরকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে সড়ক নির্মাণ করেছে। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কাজ শেষ করা হচ্ছে। ট্রাক নিয়ে চলাচল করতে গেলে ঝুঁকি নিতে হয়। অনেক সময় বড় যানবাহন ঢুকতেই পারে না। দ্রুত খুঁটি সরানো জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমান আলী জানান, সড়ক প্রশস্ত করতে তাদের জমি নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের স্বার্থে আপত্তি করেননি তারা। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে সড়ক নির্মাণ করায় সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না মানুষ। দ্রুত খুঁটি সরিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুদ মিয়া বলেন, প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহন অসাবধানতাবশত খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। বিশেষ করে রাতে ঝুঁকি অনেক বেশি। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এই খুঁটিগুলো এখন মরণফাঁদ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সড়কের পাশে বাজার থাকায় সকাল-সন্ধ্যা দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বড় ট্রাক ঢুকতে না পারায় মালপত্র পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে খুঁটি অপসারণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের ভাষ্য, সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন তারা। খুঁটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। খুব শিগগিরই সেই অর্থ পল্লী বিদ্যুৎকে দেওয়া হবে। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তারা চাইলে আগেই খুঁটি সরাতে পারতেন।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, কাঞ্চন-মায়ারবাড়ি-ডাঙ্গা সংযোগ সড়কে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি- দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় জামানত জমা দিয়ে খুঁটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই সড়কের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে খুঁটি অপসারণের বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।