ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় মুছে যাচ্ছে গ্রাফিতি দেয়ালচিত্র

নওগাঁয় মুছে  যাচ্ছে গ্রাফিতি দেয়ালচিত্র
×

 কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নওগাঁ শহরের দেয়ালজুড়ে আঁকা হয়েছিল শতাধিক গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ, সম্প্রীতির বাংলাদেশ এবং অভুত্থান-পরবর্তী গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা– উঠে এসেছিল শিক্ষার্থীদের রংতুলির আঁচড়ে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর না পেরোতেই এগুলোর একটি বড় অংশ হারিয়ে যেতে বসেছে। কোথাও বৃষ্টি-রোদে রং বিবর্ণ হয়েছে, কোথাও দেয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ পড়েছে, আবার কোথাও পোস্টার ও বিজ্ঞাপনের আড়ালে ঢাকা পড়েছে আন্দোলনের স্মৃতি। 
নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা, কেডির মোড়, নওগাঁ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উপজেলা সদরগুলোতে শত শত গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। অধিকাংশ দেয়ালে স্থান পেয়েছিল রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের প্রতিকৃতি। পাশাপাশি লেখা হয়েছিল, ‘সবাই মিলে গড়বো দেশ, চলরে নওজোয়ান শোনরে পাতিয়া কান ...’, ‘দেশটা কারোর বাপের না’, ‘স্বাধীনতার সূর্যোদয়’, ‘৩৬শে জুলাই’, ‘বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা’, ‘বিকল্প কে? ছাত্র’, ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’, ‘এবার সভ্যতা আনব’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, সংস্কারও আনবো’, ‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার’, ‘নতুন স্বাধীনতা ২০২৪’-এর মতো অসংখ্য স্লোগান। বিভিন্ন দেয়ালচিত্র আর লেখা আন্দোলনের ইতিহাসকে শিল্পের ভাষায় মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের অনেক দেয়ালচিত্রের রং প্রায় মুছে গেছে। কোথাও পুরো দেয়াল নতুন করে রং করা হয়েছে, কোথাও বিজ্ঞাপন ও পোস্টারে ঢেকে গেছে শিল্পকর্ম। আবার কিছু স্থানে ভবন ও দেয়াল সংস্কারের সময় সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে গ্রাফিতি। 

নওগাঁ শহরের কেডির মোড় এলাকায় সেই সময় গ্রাফিতি অঙ্কনে অংশ নেওয়া নওগাঁ বিএমসি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী দীপিকা বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বীকৃতির জন্য নয়, একটি ঐতিহাসিক সময়কে রংতুলির মাধ্যমে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো মুছে যেতে দেখে কষ্ট হচ্ছে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইরিন জামান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আঁকা প্রতিটি গ্রাফিতির সঙ্গে মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। এগুলো মুছে যাওয়া মানে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ধীরে ধীরে চোখের আড়ালে চলে যাওয়া। গুরুত্বপূর্ণ গ্রাফিতিগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণ, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি এবং প্রয়োজনে পুনরায় অঙ্কনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, শুধু সরকারের নয়, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক– সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই জুলাইয়ের চেতনা সংরক্ষণ করতে হবে। গ্রাফিতি তরুণদের সম্পৃক্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এগুলো সংরক্ষণ করা গেলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকবে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। 

আরও পড়ুন

×