ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ শহীদ জাবিরের বাবার
ইমতিয়াজ আহম্মেদ জাবির
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৯ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামের কৃষক নওশের আলী ও শিরিনা আক্তার দম্পতির স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ জাবিরকে উচ্চশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার। সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ শিক্ষার্থী জাবির। এদিকে এখনও ছেলে হত্যার বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়েছেন শহীদ জাবিরের বাবা নওশের আলী।
জাবিরের পরিবারের দাবি, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপের কারণে রাতেই মরদেহ দ্রুত দাফন করতে বাধ্য হন তারা। ফলে স্বজনের অনেকেই জাবিরকে শেষবারের মতো দেখতে পারেননি। এমনকি শেষবারের মতো জাবিরের মরদেহ বাড়ির ভেতরেও নিয়ে যেতে পারেননি তারা।
জানা গেছে, জাবিরের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এখনও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ পরিবারটি।
নওশের আলী বলেন, ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত মরদেহ আনার পুরো সময় দ্রুত দাফনের জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কোনো আনুষ্ঠানিকতা না করে সরাসরি কবরস্থ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যার বিচার পায়নি। এখন শুধু চাই, যারা মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিচার হোক।’
স্থানীয়রা জানান, নওশের আলী দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি জমি বিক্রি করেছেন। এমনকি তাঁর মুরগির খামারও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। সেই ছেলেকে হারানোর বেদনা আর শেষ বিদায়ে ঘরে তুলতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই দিন কাটছে পরিবারটির।
- বিষয় :
- হত্যার অভিযোগ