ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটিয়ায় বাইকার গ্যাংয়ের ৬ সদস্য আটক, উদ্ধার ১ লাখ ইয়াবা

পটিয়ায় বাইকার গ্যাংয়ের ৬ সদস্য আটক, উদ্ধার ১ লাখ ইয়াবা
×

জব্দ করা মোটরসাইকেল। ছবি- সমকাল

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:২১

চট্টগ্রামের পটিয়ায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি বাইকার গ্যাংয়ের ছয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৭। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ লাখ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে পটিয়া পৌরসভার সরকারি কলেজ ও ডাকবাংলো এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৭ এর সিপিসি-৩ (বহদ্দারহাট) ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

আটকরা হলেন— বশির (৩৭), হোসেন (৩৭), বেলাল উদ্দিন (৩২), নুরুল মোস্তফা (৩৮), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও হাসান (৩৯)।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে চক্রটির গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, কক্সবাজারের রামু থেকে মোটরসাইকেলে করে বড় একটি ইয়াবার চালান চট্টগ্রাম শহরের দিকে আনা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা মহাসড়ক এড়িয়ে পটিয়ার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করলেও সেই তথ্যও র্যারবের নজর এড়াতে পারেনি।

এরপর সরকারি কলেজ ও ডাকবাংলো এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ এর সিপিসি-৩ (বহদ্দারহাট) কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বলেন, সংঘবদ্ধ চক্রটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহন করতো। তাদের একজন সদস্য আগে এসে সম্ভাব্য পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতেন। সবকিছু নিরাপদ মনে হলে তিনি অন্য সদস্যদের সংকেত দিতেন। অভিযানে প্রথমে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ এক লাখ পিস, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের এই কৌশল সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তাই র্যা ব গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছে এবং এ ধরনের সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ বাইকার গ্যাংয়ের সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ইয়াবা চোরাচালান ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এক লাখ পিস ইয়াবা, জব্দ করা পাঁচটি মোটরসাইকেল এবং আটক ছয়জনকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী মাদক পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×