ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাব্য সংকটে কুশিয়ারা, ইলিশের দেখা নেই

নাব্য সংকটে কুশিয়ারা, ইলিশের দেখা নেই
×

ইলিশ

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের কুশিয়ারা নদী থেকে একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাছের রাজা ইলিশ। বছর ছয়েক আগেও বর্ষাকালে ফেঞ্চুগঞ্জের জেলেদের জালে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ত। এখন তার দেখাই মিলছে না। এর কারণে স্থানীয়ভাবে আহরণ করা ইলিশের দেখা পাচ্ছে না এখানকার মানুষ।

মাঝে মাঝে চাঁদপুর বা চট্টগ্রাম থেকে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের চালান আসে ফেঞ্চুগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে। তা সবার সাধ্যের মধ্যে থাকে না। এ ছাড়া কুশিয়ারা থেকে ইলিশ বিলুপ্ত হওয়ায় স্থানীয় জেলেদের একাংশ বেকার হয়ে পড়েছেন।

চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে ফেঞ্চুগঞ্জে ইন্ডিয়ান জেনারেল নেভিগেশন অব লিভার সিস্টেম মেডিকেশন কোম্পানির জাহাজ মেরামত কারখানা কেন্দ্র করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদ। কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষেই ছিল সেই কারখানা। সে সময় কুশিয়ারা নদী ও হাকালুকি হাওরের নাম ডাক ছিল মিঠা পানির নানা জাতের মাছের জন্য। এই জনপদের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে যার চাহিদাও ছিল প্রচুর। সে সময় বিশেষ নাম ডাক ছিল কুশিয়ারার ইলিশের।
বিশেষ করে বর্ষার শুরুতে স্থানীয় জেলেরা কুশিয়ারার দক্ষিণ দিকে দল বেঁধে ইলিশ শিকারে বের হতেন। গত ১০ বছর ধরে কুশিয়ারা ও হাকালুকিসহ এখানকার জলাধারগুলোতে মাছের পরিমাণ কমে গেছে

উল্লেখযোগ্য হারে। ইলিশসহ বিভিন্ন জাতের পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের মুখে আর হাসি নেই; বদলায়নি তাদের ভাগ্যও।
ষাটোর্ধ্ব বয়সের জেলে সোহবান মিয়া বলেন, এই নদীই ছিল জেলেদের জীবন ও জীবিকার সব। সুখে-দুঃখে ৪০ বছর এই নদীই তাদের জীবনের গতি নির্ধারণ করেছে। ছোটবেলা থেকেই কুশিয়ারায় মাছ শিকারে গিয়েছেন বাবার সঙ্গে। এখন সেই কুশিয়ারায় মাছ খুঁজে পাওয়াই কঠিন। আর ইলিশের দেখা পাওয়া তো দূরের কথা।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর ইলিশ আমদানি হতো ফেঞ্চুগঞ্জে। পাশাপাশি কুশিয়ারার নিজস্ব ইলিশও ধরা পড়ত প্রচুর। নিজেদের আহরণ করা ইলিশ বিলুপ্ত 
হওয়ার পাশাপাশি বাইরে থেকেও আগের মতো ইলিশ আসছে না। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পরও জাহাজ মেরামত কারখানাটি চালু ছিল। কিন্তু ষাটের দশকে এসে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আস্তে আস্তে কুশিয়ারা নদী তার গভীরতা হারাতে থাকে এবং তলদেশে পলি জমে নাব্য সংকট তৈরি হয়। সেই সঙ্গে মাছের উৎস হিসেবে অযোগ্য হতে শুরু করে নদীটি। গভীরতা কমায় বন্ধ হয়ে যায় ইলিশের আনাগোনা।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মফিজিল আলী জানান, দুই দশক আগেও পূর্ণিমার রাতে জেলেরা নদী থেকে প্রচুর ইলিশ ধরতেন। আকার কিছুটা ছোট হলেও সব শ্রেণির মানুষ তা কিনে খেতে পারতেন। এখন নদীতে জাটকা মাছও পাওয়া যায় না।
ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, মা ইলিশের ডিম ধারণক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত পাঁচ-সাত বছরে মা ইলিশের ডিম ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।  বর্তমানে প্রতিটি মা ইলিশ গড়ে সাড়ে ৬ লাখ থেকে ৮ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়ছে।

আরও পড়ুন

×