আট ব্যক্তির দখলে সরকারি জমি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
এক সময় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল বল্লাঘাট। সেখানে গাড়ি পার্ক করে পর্যটকরা হেঁটে গুচ্ছগ্রাম টিলার পাদদেশের জিরো পয়েন্টে যেতেন। তবে গত এক দশকেরও কম সময়ে বদলে গেছে দৃশ্যপট।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গুচ্ছগ্রাম টিলায় নিজেদের রেস্ট হাউস করতে গিয়ে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে। এর পর থেকেই বল্লাঘাট না গিয়ে পর্যটকেরা সরাসরি বাইপাস সড়ক দিয়ে গুচ্ছগ্রাম এলাকায় যাতায়াত শুরু করেন। বিশেষ করে ২০১৭-২০১৮ সাল থেকে গুচ্ছগ্রামই হয়ে ওঠে জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের প্রধান জংশন। ফলে সেখানে একের পর এক গড়ে ওঠে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে গিয়ে দখল করা হয়েছে সরকারি জমি। বাগান শ্রেণির গুচ্ছগ্রাম টিলার সাড়ে আট একর জায়গার অর্ধেকেরও বেশি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সরকারি জায়গায় আট ব্যক্তির অধীনে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার ৮ দশমিক ২৫ একর (গুচ্ছগ্রাম) বাগান শ্রেণির ভূমি রয়েছে, যা আগে মারন খাসিয়া নামে এক ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় তারা ভারতে চলে গেলে জমিটি অর্পিত ও অনাগরিক সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পরে বিএস জরিপে তা ৮০ ও ৮১ নম্বর দাগে বিভক্ত হয়। ৮০ নম্বর দাগের ৫ দশমিক ৬১ একরের মধ্যে ৩ দশমিক ৫৯৫ একর বিজিবি ক্যাম্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় এবং বাকি ২ দশমিক ০১৫ একর বেদখল হয়ে যায়।
অন্যদিকে ৮১ নম্বর দাগের ২ দশমিক ৬৪ একর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলেও সেটিও হাতছাড়া হয়। বর্তমানে মোট ৪ দশমিক ৬৫ একর সরকারি জমি আটজন প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দখলদারদের মধ্যে– নলজুড়ির আব্দুল কুদ্দুছের রয়েছে জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট, ১৯টি দোকান ও একটি পাবলিক ওয়াশরুম। একই এলাকার ফারুক আহমদের জাফলং ভিউ গেস্ট হাউস ও ৯টি দোকান। মোহাম্মদপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন ওরফে জুবের আহমদের প্যারিস রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউস। জৈন্তাপুরের নুরুজ্জামানের জৈন্তা ভ্যালি রিসোর্ট ও চারটি দোকান। লাখেরপাড়ার আলম বখতের নামে রয়েছে জাফলং গ্রিন রেস্টুরেন্ট ও সাতটি দোকান। একই এলাকার বাবলু বখতের রয়েল রিসোর্ট ও পাঁচটি দোকান এবং উমর আলীর পর্যটক ভিউ রেস্টুরেন্ট ও তিনটি দোকান। আর গুচ্ছগ্রামের রায়হান আহমদের সীমান্ত রেস্টুরেন্ট ও দুটি দোকান।
দখলদার আলম বখত ও নুরুজ্জামান জানান, জমি কেনা সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। তবে বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী। ইউএনও আরও জানান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম দখল-সংক্রান্ত বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
- বিষয় :
- দখল