রাজশাহীর বাগমারা
খালে বিলে চায়না দুয়ারি, প্রশাসন বসে আছে ‘বাজেট সংকটে’
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহীর বাগমারার খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহারে বিলুপ্ত হতে বসেছে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী। এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় এ জালের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন বাজেট সংকটে তিনি নিয়মিত অভিযান চালাতে পারছেন না। চলতি মৌসুমে মাত্র একটি অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন খাল ও বিলে এই জালের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। হাঁটুপানি থেকে শুরু করে গভীর জলেও এই জাল দিয়ে জেলেদের মাছ ধরতে দেখা যায়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে এই জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, ডিম, রেণু ও পোনা আটকা পড়ে। ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুক, জলজ পোকামাকড়সহ বিভিন্ন প্রাণীও এর শিকার হচ্ছে।
মাধাইমুরি গ্রামের জেলে আব্দুল কাদের বলেন, আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে প্রচুর টেংরা, পুঁটি, খলিশা, কৈ, শিং ও মাগুর মাছ পাওয়া যেত। এখন আগের মতো মাছ নেই। চায়না দুয়ারি জালে মাছ বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি দ্রুত লাভের আশায় নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছেন। ফলে বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত জেলেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নে ৩৭টি বড় বিল ও ২০০টির বেশি খাল ছাড়াও অসংখ্য জলাশয় রয়েছে। সেখান থেকে গত অর্থবছরে ২৪ হাজার ২৫০ টন দেশীয় মাছ আহরণ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরও আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার ৫০০ টন ধরা হয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে একটি অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই উপজেলার দামনাস বাজারে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে ২০০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। তিনি জানান, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। জনবল ও বাজেট স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আক্তারুজ্জামান বলেন, আমি বার্ষিক ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়ে থাকি। যা সারা বছর অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে খুবই অপ্রতুল। যেখানে একটি অভিযান পরিচালনা করতেই ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাইনি। বরাদ্দ পেলে একটা বড়সড় অভিযানের ব্যবস্থা করব। চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা যথেষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি চলতি মৌসুমে একটি মাত্র অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন। আর কোনো অভিযানের তথ্য আছে কিনা সেটি তিনি অফিসের রেজিস্টার দেখে বলতে পারবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, এই ধরনের জাল দেশীয় মাছের জন্য হুমকি। নিষিদ্ধ এই জালের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- মাছ