‘এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া’, ঘরের চাবি হাতে আবুল কালাম
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘরের চাবি নেওয়ার সময় আবুল কালামের মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। ছবি: সমকাল
আহমদ উল্লাহ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) থেকে
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:১১ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:১৪
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে। কৃষিকাজ করে সংসার চালানো আবুল কালামের নিজের একটি ঘর থাকবে- এ স্বপ্ন ছিল বহুদিনের। কিন্তু সংসারের খরচ সামলাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ঘর বানানোর সামর্থ্য হয়নি তার। রোববার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো তার।
বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদের একজন পুইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ঘরের চাবি নেওয়ার সময় তার মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। হাতে ছিল প্রতীকী চাবি। তাতে লেখা—‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার’।
ক্রাচে ভর দিয়ে বসে থাকা আবুল কালামের সেই দৃশ্যটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি কাড়ে।
আবুল কালাম বলেন, ‘নিজের একটা নিরাপদ ঘর হবে- এটা অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জীবনের শেষ সময়ে এসে হলেও পরিবারের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় পেলাম, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
কৃষিকাজই তার আয়ের প্রধান উৎস। তবে কৃষিকাজের আয় সব সময় এক রকম হয় না। সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ঘর নির্মাণের কথা চিন্তাই করতে পারেননি তিনি।
আবুল কালাম বলেন, ‘সংসার চালাতেই অনেক কষ্ট হয়। ঘর বানানোর মতো টাকা কখনো জোগাড় করতে পারিনি। এখন সরকারি সহায়তায় ঘর পেয়েছি। অন্তত এই চিন্তাটা আর করতে হবে না।’

বন্যার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে। উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বসতঘরে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।
বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাদ্য ও জরুরি সহায়তার পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাহারছড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি গৃহহারা পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন ঘরের চাবি।
অনুষ্ঠানে ১০০ পরিবারের হাতে ঘরের চাবি দেওয়া হয়। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আবাসনের সংকটে ছিলেন। নতুন ঘর পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি।
পুইছড়ির আরেক উপকারভোগী লক্ষ্মী দাশ বলেন, ‘ঘর পাওয়া আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া। নিজের একটা নিরাপদ ঠিকানা থাকবে- এটা ভাবতেই ভালো লাগছে। এখন সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টের পর একটি স্থায়ী ঘর পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন আগের চেয়ে অনেক নিশ্চিন্ত।
দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী আবাসনের গুরুত্ব
বাঁশখালী উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতিবছর বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকে এখানকার অনেক পরিবার। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের পক্ষে নতুন করে ঘর তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুর্যোগের পর ত্রাণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটায়। কিন্তু একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ঘর একটি পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দেয়। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি।
রোববারের অনুষ্ঠানে আসা উপকারভোগীদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নতুন ঘরের কথা বলছিলেন। কারও কাছে নতুন ঘর মানে মাথা গোঁজার ঠাঁই, কারও কাছে সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- তারেক রহমান
- গৃহহীন
- ঘর উপহার