‘এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া’
উপহারের ঘর পেয়ে খুশি কৃষক আবুল কালাম
আহমদ উল্লাহ, চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৮ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৮
জীবনের দীর্ঘ সময় দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম। নিজের একটি স্থায়ী ঘরের স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে সীমিত আয়ের কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গৃহহীনদের হাতে উপহারের ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। ঘরের চাবি পাওয়ার পর আবুল কালামের মুখে ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। তিনি হাতে তুলে নেন চাবির প্রতীকী কাঠামো। সেখানে লেখা ছিল ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার’।
আবুল কালাম বলেন, নিজের একটি নিরাপদ ঘর পাওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। জীবনের শেষ সময়ে হলেও পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় পাওয়াকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন আবুল কালাম।
তিনি জানান, কৃষিকাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে আয়-রোজগার সব সময় এক রকম থাকে না। নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি উদ্যোগে ঘর পাওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে। আবুল কালাম বলেন, ‘নিজের একটা নিরাপদ ঘর হবে– এটা অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
ঘর পাওয়া আরেকজন লক্ষ্মী দাশ। আবুল কালামের মতো তিনিই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের কষ্টের পর নিজের একটি ঘর পাওয়ায় তাঁর পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নতুন ঘর ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। একটি নিরাপদ ঘর নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা যারা অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করেছেন, তারাই ভালো বোঝেন। সরকারি সহায়তায় পাওয়া এই ঘর তাদের জীবনে স্থায়ী নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করবে বলে মনে করেন লক্ষ্মী।
বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় মানুষের বসতঘর, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বসতঘরে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে নিম্ন আয়ের ও গৃহহারা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাহারছড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয় এবং গৃহহারা পরিবারগুলোকে নতুন ঘরের চাবি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ঘরের চাবি পাওয়া ১০০ পরিবারের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ আবাসনের সংকটে ছিলেন। নতুন ঘর পাওয়ায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠানে আসা উপকারভোগীদের অনেকেই নতুন ঘরকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, বাঁশখালী উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এখানে স্থায়ী ও নিরাপদ আবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোকে শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, পুনর্বাসনের আওতায় আনা হলে তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।