ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট
×

কুমিল্লার কোটাবাড়ির বিশ্বরোড় এলাকা থেকে তোলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৯

মাত্র ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতি-আমতলী এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দিনভর থেমে থেমে যানজট ছিল। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ময়নামতি-আমতলী এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা। এসব অংশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ধীরগতির সংস্কারকাজের মধ্যে টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। সোমবার রাত ৯টার দিকে অতিবৃষ্টিতে সড়কের ভাঙা অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। রাতভর সেখানে যানবাহনের জটলা ছিল। মঙ্গলবার দিনভরও ধীরগতিতে যান চলাচল করেছে।

চালকদের অভিযোগ, সড়কের খানাখন্দে ইট-বালু দিয়ে জরুরি মেরামতের চেষ্টা করা হলেও বৃষ্টি হলেই সেসব স্থানে আবার পানি জমে যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কুমিল্লা থেকে বাসে ঢাকায় যাওয়ার সময় মাদরাসা অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন সরকার সমকালকে বলেন, ‘শাসনগাছা থেকে সকালে ঢাকার বাসে রওনা দিয়ে ময়নামতি আসতে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ১০ মিনিট লাগে, সেখানে মঙ্গলবার প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে।’

কলেজ শিক্ষক সফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ময়নামতি থেকে কুমিল্লা নগরীতে আসার পথে প্রায় দেড় ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

হাইওয়ে ময়নামতি থানার এসআই আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘সোমবার রাতে বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে যানজট দেখা দেয়। সারা রাত আমরা রাস্তায় ছিলাম। মঙ্গলবার দিনভর ধীরগতিতে যানবাহন চলেছে।’ ভাঙা সড়ক মেরামত না করা পর্যন্ত যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে না বলেও জানান তিনি।

তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে, ময়নামতি সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে জরুরি সংস্কারকাজ করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমলে সেখানে স্থায়ীভাবে সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে।

সড়ক উপবিভাগ (গৌরীপুর) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা সমকালকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং যানজট দেখা দেয়। আমরা জরুরি মেরামত করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে নতুন করে ঢালাইয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা। বৃষ্টিপাত কমে এলে স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

×