ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কাউকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কাউকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী
×

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫১

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে কাউকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বন্দর দেশি বা বিদেশি যে প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকুক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির স্বার্থে তাকে দেশের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বন্দর ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্টসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের জটিলতা নিরসন, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি ফেরানো এবং ব্যবসার খরচ কমানোর বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্দর ও কাস্টমসের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি কোন সমস্যা কত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, কাস্টমস ও বন্দরের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি দুই পক্ষের যেকোনো সমস্যা একসঙ্গে বসে সমাধান করবে।

সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে ব্যবসা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার সঙ্গে পরিচিত—এ সরকারের অধীনে এসব চলবে না। আমরা কোনো পৃষ্ঠপোষকতার কাউকে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে দেব না। যে যত বড় মন্ত্রী হোক, যত ক্ষমতাবান লোকই হোক, কারও জন্যই এ সুযোগ নেই।’

বন্দর পরিচালনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারাই পোর্ট চালাক, তাদের নিয়ম মেনে জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, শিল্পের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চলতে হবে। পোর্ট কে চালাবে, না চালাবে, এটা আমাদের বিষয় না। যার হাতে পোর্ট থাকবে, সেটা দেশি হোক বা বিদেশি হোক, তাদের এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।’

বন্ধ গার্মেন্ট কারখানা চালু করা এবং শিল্পের পরিবেশ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, শিল্পকারখানাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, কেউ যাতে বাধার মুখে না পড়ে এবং ব্যবসায়িক খরচ কমে আসে, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে অর্থনীতিকে সরলীকরণ করা হয়েছে। ডিরেগুলেশন করা হয়েছে। ট্যাক্সেশন কমানো হয়েছে, যাতে শিল্পগুলো উঠে আসতে পারে। অনেকগুলো উদ্যোগ এই সরকার নিয়েছে। এতে বিদেশিরা কী হারে এখানে আসছে, তা দেখা যাচ্ছে। দেশে আরও অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।’

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার দিকে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতিকে চাঙা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের বাধার মুখে না পড়েন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

আগামী দিনে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে নতুন ধারার সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী, সরকার ও জনগণ—সব পক্ষই লাভবান হবে। এর ফলে ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রামে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রামে এডিবি কখনও আসছে? এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলতে আসছেন। মানে কী? অর্থাৎ চট্টগ্রাম নিয়ে তাদের বিশাল পরিকল্পনা আছে।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, আগামী দিনে উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে দেখতে চায় এডিবি। এ কারণে এডিবির সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

×