রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ছাত্রত্ব হারিয়ে আসন বাতিল, তবুও হল ছাড়েননি ছাত্রদল নেতা
আবদুল্লাহ আল নিশাত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৩৭
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নিশাত ছাত্রত্ব হারানোর পর হলের আসন বাতিল হয়। কিন্তু এরপরও তিনি হলের ২৩২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন।
নিশাত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, নিশাত ড্রপআউট হয়ে তার ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। তবে তিনি একাডেমিক কাউন্সিলে (এসি) বিশেষ বিবেচনায় ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন করেছেন বলে জেনেছি। তবে সেখানে তার পুনরায় ভর্তি আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তিনি আবারও একটি আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টির সঙ্গে বিভাগীয় প্রশাসনের কোনো এখতিয়ার নেই। এটি একাডেমিক কাউন্সিলই দেখবে।
মতিহার হল সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই ড্রপআউট হয়ে ছাত্রত্ব হারানোয় নিশাতকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় হল প্রশাসন। প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর নিয়মিত ছাত্র হিসেবে আপনার ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে হলে আপনার ভর্তির কোনো তথ্য পায়নি এবং আপনি ড্রপ আউট হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
সিট বাতিলের বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ড্রপ আউট হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সিট বাতিল করা হলো। ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের সব বকেয়া পরিশোধ করে হল ত্যাগ করতে হবে।
জানা গেছে, বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ পরীক্ষায় পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন নিশাত। পরের বছর কৃতকার্য হলেও পরবর্তী বছর আবারও অকৃতকার্য হন। ফলে ড্রপআউট হয়ে যান।
হলে অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করে নিশাত বলেন, আমার ছাত্রত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন দেওয়া আছে। প্রাধ্যক্ষের কাছে আমি কিছুদিন সময় নিয়ে এখন হলে অবস্থা করছি। যেহেতু এখনো নতুন করে আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই সামনে অ্যালটমেন্ট পর্যন্ত হয়তো থাকার সুযোগ থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে যদি আমি ছাত্রত্ব ফিরে পাই, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। আর যদি না পাই, তাহলে হয়তো হল ছেড়ে চলে যেতে হবে। বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে হলে থাকা বা হল দখল করে রাখার মতো নয়।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকার সমকালকে বলেন, ছাত্রত্বের কোনো তথ্য না পাওয়ায় তার আসনটি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তার হলে অবস্থান করার তথ্য আমার জানা ছিল না। তবে তিনি ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার একটি আবেদন করেছেন। তবে এটা একাডেমিক কাউন্সিল তার আবেদন গ্রহণ করেছে কিনা, সেটি আমার জানা নেই। তার ছাত্রত্ব ফিরে না এলে আমরা ওই সিটে অন্য শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দিয়ে দেব।
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- ছাত্রদল