পল্লবীতে বিএনপি নেতাকে গুলি
নেপথ্যে মাদক কারবারের ১৫ লাখ টাকার বিরোধ
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৩৬
রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার রাতে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি সূত্র বলছে, মাদক কারবারের পাওনা ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল, বাপ্পা ওরফে শাকিল, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, হত্যাচেষ্টার সময় ব্যবহৃত একটি লাল রঙের প্রাইভেটকার, একটি ভক্সওয়াগন গাড়ি এবং এক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার রুবেল দাবি করেছেন, মাদক কারবারের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গুলির ঘটনা ঘটে। তাঁর বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। গুলির ঘটনায় জড়িত ছয়জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আলমগীর হোসেন ও ল্যাংড়া রুবেল পরস্পরের পরিচিত। দুজনের বিরুদ্ধেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে আলমগীরকে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা সরবরাহ করেন রুবেল। সেই বাবদ তিনি ১৫ লাখ টাকা পান। কিন্তু আলমগীর টাকা না দিয়ে টালবাহানা করছিলেন। সর্বশেষ এক সপ্তাহ সময় নিয়ে ঘটনার দিন টাকা দিতে চান তিনি। সেদিন রুবেল তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু আলমগীর টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে যান। তাঁর একটি পা কাটা থাকায় হাঁটা চলায় কিছুটা সমস্যা হয়। তাই তিনি গাড়িতে বসেই এক সহযোগীকে দায়িত্ব দেন আলমগীরকে ধরে আনার। সহযোগী তাঁকে ধরলে রুবেল পিস্তলের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মাথায় গুলি করা হয়নি। তবে পরে পেটে দুটি গুলি করেছেন। হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। সম্প্রতি চট্টগ্রামে তাঁর একটি ইয়াবার চালান ধরা পড়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে আলমগীরও পাওনা টাকা না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ‘শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিলেন।
ডিবি সূত্র জানায়, হত্যাচেষ্টার পর ব্যবহৃত অস্ত্র মিরপুরের রূপনগর এলাকার বেড়িবাঁধে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন রুবেল ও সহযোগীরা। পরে তারা ঢাকার বাইরে চলে যান। তারা বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা ছিল। তবে পরে সেই অনুষ্ঠানটি একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৭ আগস্ট পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকে আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। এতে তিনি ও জোছনা বেগম নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। তখন আলমগীরের দূর সম্পর্কের ভাতিজির স্বামী মো. আশিক সমকালকে বলেন, আলমগীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটে ভাইয়ের সঙ্গে মাছের আড়ত চালান তিনি। ঘটনার দিন বিকেলে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে ঘটনাস্থল বি-ব্লকের দুই নম্বর সড়কে একটি চায়ের দোকানের সামনে যান। সেখানে আড্ডা দেওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে আসা চারজন তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
- বিষয় :
- বিএনপি
- গুলি করে হত্যা
- গ্রেপ্তার
- ডিবি