জুলাইয়ে আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব: পর্যটনমন্ত্রী
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫১
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাহসী অংশীদার বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগকে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করলেই হবে না; তাঁদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মানবিক, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের হাতে প্রাইজবন্ড ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ‘যে মা সন্তান হারিয়েছেন, যে বাবা নিজের কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করেছেন, তাঁরাই সন্তান হারানোর কষ্ট জানেন। আপনাদের অবদানের কারণেই আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছি।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে পর্যটন খাতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘৩৬ জুলাই’ স্মরণীয় করে রাখতে পর্যটন করপোরেশনের হোটেলগুলোতে জুলাই যোদ্ধাদের ৩৬ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে ৫০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশের প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক সূচকে পরিমাপ করা যায় না। মানুষের মর্যাদা, অধিকার, ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের সামনে তুলে দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানুষের প্রত্যাশা, বৈষম্যহীন সুযোগ ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, জুলাই শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের সম্মান জানানো শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা ও জাতীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার এনডিসিসহ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।