বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপর্যস্ত পোলট্রি খামার, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
মাধবপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে খামারে তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। অসুস্থ হয়ে পড়ছে মুরগি। বুধবারের ছবি সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছে গোটা দেশ। একই পরিস্থিতি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাতেও। বিদ্যুৎ বিভ্রাট অসহনীয় পর্যায়ে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবকিছুতেই ভাটা পড়েছে; যার মধ্যে রয়েছে এখানকার পোলট্রি খামারগুলো।
খামারের মালিকরা বলছেন, ডিম ফোটানো থেকে শুরু করে মুরগির বাচ্চা পালনের প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক মাত্রায় তাপমান নিয়ন্ত্রণ করতে হয় পোলট্রি খামারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
অপর এক খামারি জানান, প্রাপ্ত বয়স্ক মুরগিগুলো গরমে ঝিমিয়ে পড়েছে। বৈদ্যুতিক পাখার মাধ্যমে বাতাস দেওয়া যাচ্ছে না। হিটার ব্যবহার করতে না পারায় খামারের ভেতরের কিছু স্থান স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে; যার কারণে রোগ ছড়াতে পারে। এ অবস্থায় প্রত্যাশা মতো মুরগি পালন ও বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা নিয়ে উদ্বিগ্ন খামারিরা।
খামার মালিকদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিন ও রাত মিলিয়ে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে খামারে থাকা মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। অন্যদিকে জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ফ্যান, কুলিং সিস্টেম ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খামারের ভেতরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে অনেক মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে। খামার সচল রাখতে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছেন। তাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের খামারি আশফাক হক জানান, তাঁর খামারে প্রায় তিন হাজার ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম করে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে হাঁপিয়ে উঠে ইতোমধ্যেই বেশকিছু মুরগি মারা গেছে। ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূলধন রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরেক খামারি নাজমুল হক বলেন, ব্যাংক ঋণ নিয়ে খামার করেছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানির মোটর বন্ধ। মুরগিকে সময়মতো পানি দিতে পারছেন না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিথুন সরকার জানান, মাধবপুরের ১১টি ইউনিয়নে শতাধিক পোলট্রি খামার রয়েছে। বিদ্যুতের এই তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে খামারিরা প্রচণ্ড অসুবিধায় পড়েছেন।
মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (অপারেশন) ইউসুফ আলী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ কম পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময় লোড সামাল দিতে হচ্ছে। এছাড়া কিছু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলায় এ সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নয়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
তবে পোলট্রি খামারিদের দাবি, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো গভীর সংকটে পড়বে, যার প্রভাব বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহেও পড়তে পারে।
- বিষয় :
- পোলট্রি খামার