ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৌশলী হতে চায় মানসী

প্রকৌশলী হতে চায় মানসী
×

বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মানসী সরকার সমকাল

 রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্য যখন স্পষ্ট আর পরিশ্রম যখন আন্তরিক– সাফল্য তখন সুনিশ্চিত। তারই প্রমাণ দিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মানসী সরকার। এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে রেকর্ড ১২২৩ নম্বর পেয়ে সে সমগ্র নওগাঁ জেলায় প্রথম এবং রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেছে।
ভবিষ্যতে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবা করতে চায় এই অসামান্য সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থী।
মানসী নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার আত্রাই মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মা মল্লিকারানী মজুমদার মধুগুড়নই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মানসী বড়। ছোট ভাই অভিরূপ সরকার অঙ্কন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ বুলবুল হোসেন বলেন, ‘মানসী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও অনুগত। তার অর্জনে, কেবল তার পরিবার নয়–পুরো বিদ্যালয়, সহপাঠী ও এলাকাবাসী গর্বিত। তার এই সাফল্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’

অধ্যক্ষ আরও জানান, এ বছর তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, এর মধ্যে ৮৯ জন কৃতকার্য হয়েছে এবং মানসীসহ ৩৮ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ ৫।
মেয়ের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, মানসীকে পড়ার জন্য কখনও আলাদা করে তাগাদা দিতে হয়নি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তার নিজের এক ধরনের প্রবল স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই যেখানে মোবাইলে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, মানসী ছিল তার ব্যতিক্রম। তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানার প্রয়োজন ছাড়া সে অহেতুক মোবাইল হাতে নেয়নি। পড়াশোনার পাশাপাশি সে তার মাকে সংসারের কাজেও নিয়মিত সাহায্য করত। তার এই অর্জন নওগাঁর শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।’
সাফল্য নিয়ে মানসী সরকার অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানায়, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে পড়াশোনা করা। বাবা-মা, শিক্ষক বা আত্মীয়স্বজনের চাপে পড়ে নয়– জানার আগ্রহ নিয়ে পড়তে হবে। শিক্ষকদের নির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমই ভালো ফলের মূল চাবিকাঠি।’ মানসী আরও বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে প্রকৌশলী হব এবং দেশের মানুষের সেবা করব। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আমি সেই স্বপ্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম। আমি যেন আমার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণ করতে পারি, সে জন্য সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চাই।’

আরও পড়ুন

×