প্রবল স্রোতে নদীতে হাসনাপাড়া স্পারের ৩০ মিটার
বগুড়ার সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর ইউনিয়নে হাসনাপাড়া স্পারের ৩০ মিটার নদীতে বিলীন। গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর প্রবল স্রোত ও তীব্র ঘূর্ণাবর্তে প্রায় ৩০ মিটার স্যাংক (মাটির অংশ) নদীতে ধসে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের হাসনাপাড়া স্পারে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে স্পারের একাংশ থেকে মাটি সরে যেতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর স্রোতের চাপ বাড়তে থাকলে ভাঙনের তীব্রতাও মারাত্মক আকার ধারণ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই স্পারের স্যাংক অংশ ধসে নদীতে পড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে স্পারের সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী বটগাছও ধসে পড়া মাটির সঙ্গে যমুনায় বিলীন হয়ে যায়।
ভাঙনের খবর ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে স্পারের আরও বড় অংশ নদীতে চলে যেতে পারে। স্পারের সঙ্গে সংযুক্ত চলাচলের সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, ‘হাসনাপাড়া স্পারটি এই এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এর ওপর নির্মিত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। ফলে এই ভাঙন কেবল একটি স্থাপনার ক্ষতি নয়; পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর আঘাত এনেছে। অনতিবিলম্বে এখানে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ শুরু করেছে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীর স্রোতের তীব্রতা ও মাটি সরে যাওয়ার প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল রানা জানা, ‘উজানে নতুন করে চর জেগে ওঠার কারণে নদীর পানির মূল গতিপথ এখন সরাসরি স্পারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে সেখানে প্রচণ্ড ঘূর্ণাবর্ত ও ভাঙনের
সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওটেক্সটাইল বস্তা (জিওব্যাগ) ফেলার কাজ চলছে।’
- বিষয় :
- নদী