নারায়ণগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ
স্বামীর দাফনের ছয় ঘণ্টা পর মারা গেলেন স্ত্রীও
ফজিলত বেগম ও খোকন সরকার সমকাল
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গত শুক্রবার ঘরে আগুন লেগে দগ্ধ হন খোকন সরকার (৫৪) ও ফজিলত বেগম (৪০) দম্পতি। দুজনকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কিন্তু কাউকেই বাঁচানো যায়নি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খোকন সরকার মারা যান। তাঁকে দাফনের ছয় ঘণ্টা পর মারা যান স্ত্রী ফজিলত বেগমও।
জানা গেছে, খোকন সরকারের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের উজানীকান্দি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। এই দম্পতির ইউসুফ সরকার ও খাদিজা আক্তার নামে দুই সন্তান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খোকন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বন্দর থানার মুরাদপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেখানে থেকে মদনপুর এলাকার জাহীন গার্মেন্টসে কাজ করতেন দুজনই। গত শুক্রবার রাতে কয়েল ধরাতে গেলে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরে যায়। আগুনে খোকন ও তাঁর স্ত্রী দগ্ধ হন। দুজনকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে খোকন মারা যান।
বুধবার সকালে খোকনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়। এর মাত্র ছয় ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজিলত বেগমও। রাতে তাঁর মরদেহ উজানীজোড়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। গতকাল সকালে জানাজা শেষে স্বামীর কবরের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়।
নিহত দম্পতির মেয়ে খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতাম। ঘটনার সময় আমি ও আমার ভাই গ্রামে ছিলাম। শুক্রবার রাতে ফোনে জানতে পারি, আব্বা-আম্মা দুজনই আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে জানতে পারি, তাঁরা দুজনই আইসিইউতে ভর্তি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আব্বা
এবং পরদিন বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আম্মাও মারা যান।’
এদিকে খোকন সরকার ও তাঁর স্ত্রী ফজিলত বেগমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতদের গ্রামের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- অগ্নিদগ্ধ