শ্রমিক, দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: শ্রমিক নেতা এয়াকুব
মুহাম্মদ এয়াকুব
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৩১
বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ও জেওসিএল লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব বলেছেন, বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে শ্রমিকদের অধিকারের পাশাপাশি দেশ এবং জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরাও তা-ই বলতে চাই- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আগে থেকেই দেশে বেসরকারি পর্যায়ে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। তবে এবার বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে যেন সেই, সবার আগে বাংলাদেশ গুরুত্ব পায়। আমরা আশা করছি, শ্রমিকদের অধিকারের পাশাপাশি দেশ এবং জনগণের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এতেই কেবল সমর্থন থাকবে শ্রমিক-কর্মচারীদের।’’
জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড কার্যালয় ‘যমুনা ভবনে’ এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে তেল খাতের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, শ্রমিক অধিকার খর্ব করে জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে সরকারে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী মহল।
তিনি অভিযোগ করেন, অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদ্যমান ২২টি সুনির্দিষ্ট সুবিধা কর্তনের পাঁয়তারা, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিনামার মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করায় গড়িমসি, জ্বালানি খাতে শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধবের পরিবর্তে শ্রমিকবিরোধী আইনে পরিণত করার তোড়জোড় করা হচ্ছে।
শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ এয়াকুব বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলছে। এজন্য নানামুখী উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি খাতে এর উল্টোটাই ঘটছে। বিপিসির আওতাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে শ্রমিকদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর পাঁয়তারা চলছে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রমিক নেতাদের নানাভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টাও হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা জ্বালানি খাতে শান্তি চায়। কিন্তু আমরা শান্তি চাইলেও সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি কুচক্রী মহল শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নিয়ে এই খাতে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে। আমরা সাফ জানিয়ে দিতে চাই, জ্বালানি খাতে কাউকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা কেবল তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। হয়রানি বন্ধ চায়। অযাচিত হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ চায়।’
যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি জসিম উদ্দিন, এলপিজি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মনির হোসেন, বিপিসির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, পদ্মা অয়েল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক সেলিম কবির চৌধুরী, যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ মন্নান প্রমুখ।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন তেল-গ্যাস বিপণনকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুই বছর পর পর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণ ও যুগোপযোগী করা হয়। সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১৯ মাস হতে চললেও কেবল ইস্টার্ন রিফাইনারি ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোতে এ নিয়ে নতুন কোনো চুক্তি হয়নি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে গত ১৭ জুন বিপিসির আওতাধীন কোম্পানিগুলোর প্রান্তিক সুবিধা নীতিমালা-২০২৬ (খসড়া) সংক্রান্ত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন সভা গত ২২ জুন আহ্বান করা হয়।
শ্রমিক নেতারা বলছেন, এই খসড়ায় বিভিন্ন অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ২২টি প্রান্তিক সুবিধা কমানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এমনকি বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর ২ (৬২) ধারায় সংজ্ঞায়িত ‘শিল্পবিরোধ এবং শিল্পবিরোধ নিষ্পত্তি’-সংক্রান্ত ধারা- ২০৯, ২১০ ও ২১১ রহিতকরণের কথা বলা হয়।
নেতারা দাবি করেন, এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে বেশ কিছুসংখ্যক শ্রমিক কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শ্রমিক হিসেবে ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ ভিত্তিতে খুবই অল্প বেতনে চাকরি করে আসলেও লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন হচ্ছে জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সিবিএ সংগঠনগুলো নিয়ে সম্মিলিত এই সংগঠন।