ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের পিঁড়িতে ৮ বছরের শিশু

বিয়ের পিঁড়িতে ৮ বছরের শিশু
×

প্রতীকী ছবি

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৬

বিয়ের অর্থ কিংবা সংসার কী—এসব বোঝার বয়সই হয়নি তার। তবুও তাকে বসানো হয় বিয়ের পিঁড়িতে। এমনকি বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছিল। শেষমেষ বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী নানার বাড়িতে আশ্রয় নেয় আট বছরের শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিশুটির পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এই সুযোগে পাশের এলাকার এক পরিবার শিশুটিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। অভিযোগ, অর্থ-সম্পদের প্রলোভনে পড়ে শিশুটির মা-বাবাও এতে রাজি হন। পরে কাজী ডেকে যুবকের সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুটি জানায়, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়, ছেলের পরিবার অনেক টাকা-পয়সার মালিক। সেখানে গেলে তার জীবন সুখের হবে। এসব কথা শুনেও বিয়ের ভয় কাটেনি তার। বরং স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর দিন যত ঘনিয়ে আসছিল, তার আতঙ্কও বাড়ছিল।

শিশুটির ভাষ্য, শুক্রবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আজ রোববার বিকেলে সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। পরে প্রতিবেশী নানার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে মামার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। 

এ বিষয়ে প্রতিবেশী মামা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি এসে যখন সব ঘটনা খুলে বলল, তখন আমরা হতবাক হয়ে যাই। এরপর স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তার মা-বাবার বাড়িতে যাই। কিন্তু আমাদের আসার খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।’

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে তার আগেই শিশুটির মা-বাবা অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে পালিয়ে যান। শিশুটিকে আপাতত প্রতিবেশী নানার বাড়িতে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে নিরাপদে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত কাজীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির মা-বাবাকেও খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিশুটির মায়ের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

×