ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনু নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শতবর্ষী কাউকাপন বাজার

মনু নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শতবর্ষী কাউকাপন বাজার
×

মনু নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী কাউকাপন বাজারে একাংশ। শনিবার তোলা সমকাল

 কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন। কথা ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গৃহীত প্রকল্পে এখানকার মানুষ মনু নদীর সর্বগ্রাসী ভাঙন প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়াবে। সেই অসমাপ্ত প্রকল্পের ফাঁক গলিয়ে মনুর ভাঙন থাবা বসিয়েছে শতবর্ষী কাউকাপন বাজার।

২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় বাজারের প্রায় ৩৬টি দোকান নদীতে বিলীন হয় এবং কটারকোনা-কাউকাপন-তারাপাশা সড়কের মূল অংশে ধস নামে। ভাঙন রোধে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের ছয় বছর পার হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনকবলিত সড়ক দিয়ে প্রচণ্ড দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যানবাহন ও মানুষজন চলাচল করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,  অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে তারা কমপক্ষে পাঁচবার এলাকাটি মেরামত করেছেন। এখন দ্রুত সরকারিভাবে প্রতিরক্ষাবাঁধ নির্মাণ না করা হলে ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি পুরোপুরি নদীতে হারিয়ে যাবে।

ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, অতীতে শতাধিক দোকানপাটসমৃদ্ধ কাউকাপন বাজারটি এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। নদীপথে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে পণ্য নিয়ে আসতেন। ২০১৮ সালের জুন মাসে নদীভাঙনে বাজারের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা ও ৩৬টি দোকান বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০২০ সালে পাউবো থেকে ৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ মিটার কাজের একটি আলাদা প্রকল্প মঞ্জুর করা হয়। আরাধনা এন্টারপ্রাইজ ও মুন ইন্টারন্যাশনাল নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও তারা তিন বছরে মাটির নিচে মাত্র ৪৩ শতাংশ ডাম্পিং সম্পন্ন করে কাজ বন্ধ করে দেয়।
কাউকাপন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিধান চন্দ্র দে অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে পাউবোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় এক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর যোগসাজশে জমি অধিগ্রহণের কথা বলে কৌশলে স্থানীয়দের সই নেওয়া হয়। পরে সেই আবেদন বদলে কাজ বন্ধের পক্ষে ভুয়া আবেদন পাউবোতে জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই বছর আগে বাজার কমিটি পুনরায় কাজ শুরুর জন্য আবেদন করলেও কাজ এগোয়নি। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত কাজ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার দিয়েছেন।
হাজীপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল বাছিত বাচ্চু বলেন, ২০১৬ সাল থেকে এখানে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এ বাজার ও জনপদ রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আল-আমিন দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ইউএনও সানজিদা আক্তার জানান, তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত বাজার এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবেন। মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, তিন বছর আগে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ ছিল। ভূমিমালিকরা লিখিত সম্মতি দিলে পুনরায় কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×