ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্রোতের টানে সাগরে ডুবে বন্ধুর মৃত্যু, অপহরণের নাটক সাজিয়ে ‘মুক্তিপণ’ আদায়

স্রোতের টানে সাগরে ডুবে বন্ধুর মৃত্যু, অপহরণের নাটক সাজিয়ে ‘মুক্তিপণ’ আদায়
×

সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৩

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পাঁচ বন্ধু গোসল করতে নেমেছিল। ভাটার টানে স্রোত বেড়ে গেলে সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান (১৫) নামে এক কিশোর সাগরে ডুবে তার মৃত্যু হয়। তবে বন্ধুর মৃত্যুর খবর কাউকে না জানিয়ে চার বন্ধু বাড়ি ফিরে যায়। পরে শানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণও নেয় তারা।

গত ১৫ আগস্টের এ ঘটনায় চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার তাদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারা সবাই হালিশহরের চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের শিক্ষার্থী।

নিহত শান সন্দ্বীপের মগধারা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ, পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে স্কুলের কোচিং পরীক্ষায় অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয় শান। পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে চার বন্ধুর সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে যায় সে। সেদিন সন্ধ্যার পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্কুল ও বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে শানের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনে বলা হয়, শানকে অপহরণ করে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুক্তিপণের জন্য তাকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলেকে জীবিত ফেরত পেতে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিকাশ নম্বরে ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হলেও শানকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। আরও টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় শানের বাবা হালিশহর থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরে মামলা করেন। পুলিশ সন্দেহভাজন চার বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

জিজ্ঞাসাবাদে চার কিশোর জানায়, ১৫ আগস্ট তারা সবাই পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গিয়েছিল। সেখানে গোসল করতে নামার পর স্রোতের টানে শান ভেসে যায়। ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে যার যার বাড়িতে চলে যায়। তবে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে হালিশহর থানা পুলিশ পতেঙ্গা থানায় যোগাযোগ করলে জানতে পারে, সমুদ্রসৈকত থেকে ১৫ আগস্টই অজ্ঞাত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা পতেঙ্গা থানায় গিয়ে মরদেহটি শানের বলে শনাক্ত করেন।

হালিশহর থানার এসআই মোশাররফ হোসেন বলেন, সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে গিয়ে পানির স্রোতে শান ভেসে যায় বলে চার বন্ধু জানিয়েছে। ভয়ে তারা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘শানকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এটি নিছক দুর্ঘটনা—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ অপহরণ মামলায় চার কিশোরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শানের বাবা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ছেলে বাড়ি না ফেরায় তার বন্ধুদের ফোন করেছি। স্কুলে গিয়েও খোঁজ করেছি। সে বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গায় যাবে, সেটাও বাসায় বলেনি। তাকে খুন করা হয়েছে, নাকি অন্য কিছু ঘটেছে, তা বলতে পারছি না। অপহরণের কথা বলে বিকাশে মুক্তিপণও নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসল সত্য বের হয়ে আসুক, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন

×