ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধে উত্তেজনা, অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ৫

বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধে উত্তেজনা, অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ৫
×

ছবি: সংগৃহীত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১৯

বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি এয়ারগান ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘাত এড়াতে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষের বিক্ষোভ সমাবেশ বাতিল ঘোষণা করেছে। বর্তমানে শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করে।

আটকরা হলেন– তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার (২৮), কলাপাড়ার অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনা সদরের মো. জামাল (২৭) ও হৃদয় মোল্লা (২৪) এবং নড়াইল জেলার লোহাগড়ার জিহাদ খান (৩৫)। পরে বিকেল ৪টার দিকে যৌথ বাহিনী আরেকটি অভিযান চালিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল-আমিনের বসতবাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নজরুল ইসলাম মোল্লার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং মোস্তাক গ্রুপের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

এরই জের ধরে বুধবার দুই পক্ষই একই সময়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সভা-সমাবেশ স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

অস্ত্রসহ বহিরাগত আটকের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করে বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে একটি অংশ কয়েকদিন ধরে আমাকে ও আমার লোকজনকে হুমকি দিচ্ছিল। আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্যই তারা এসব বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছিল। বহিরাগতরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ বন্ধ করেছি। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালতলী থানার ওসি সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার জানান, শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুটি স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×