নরসিংদীতে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট
ফিলিং স্টেশনসহ বন্ধ ৩ শতাধিক কারখানা
মো. আশাদউল্লাহ মনা, পলাশ (নরসিংদী)
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৪৩
দিন যত যাচ্ছে নরসিংদীতে ততই তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট। গত এক মাস ধরে চলা এই সংকট এ জেলায় শিল্প কারখানাসহ জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ১৭টি ফিলিং স্টেশনের ১৩টি। যে চারটি স্টেশন চালু রয়েছে সেখানে গ্যাসের চাপ খুবই কম। এছাড়া গ্যাস না পেয়ে বন্ধ রয়েছে জেলার ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক শিল্প কারখানা।
জানা যায়, গত ২১ জুলাই থেকে কক্সবাজার মহেশখালি এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তীব্র গ্যাস সংকটে পড়ে নরসিংদীসহ আশেপাশের জেলাগুলো। এর মধ্যে গত ৬ আগস্ট গ্যাসের চাপ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ৫ দিন পর গত ১১ তারিখ রাত থেকে সংকটের মাত্রা আবারও বেড়ে যায়। কিছু কিছু স্থানে অল্প গ্যাস পেয়ে কারখানার উৎপাদন চালু থাকে। ১৭ তারিখ রাত থেকে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবাসিক সংযোগসহ শিল্পকারখানাগুলোতে একেবারেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েন শিল্প মালিকসহ আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীরা।
শিল্পমালিকরা জানান, গত এক চার দিন ধরে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। এত দিন বিকল্প পদ্ধতিতে অন্তত ১০ শতাংশ উৎপাদন হলেও বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন শিল্পকারখানার মালিকরা। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশিদুল হাসান জানান, গ্যাস না পাওয়া ছোটো-বড়ো তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি বলেন, সারাদেশে স্থানীয় কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দেয় এই জেলার বস্ত্রকলগুলো। জেলায় টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলসের মালিক নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন কিংবা গ্যাস বিল কিছুই দিতে পারবেন না শিল্পমালিকেরা। গ্যাস সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়ে নরসিংদী ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালেন্ডার মিলস লিমিটেডের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকারের জানানো উচিত, এই সংকট কবে নিরসন হবে এবং ওই সময় পর্যন্ত আমাদের কী করা উচিত।’
এদিকে, গ্যাস না পেয়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। চালকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না। জেলার একমাত্র চালু থাকা নাজমুল সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে যতটুকু গ্যাস পাচ্ছে; তা দিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যেও পৌঁছাতে পাড়ছেন না তারা।
ঘোড়াশাল নাজমুল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক নাজমুল হক জানান, জেলার সবকটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় তার স্টেশনে যানবাহনে অনেক চাপ থাকে। যেখানে ১৫ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন সেখানে তিনি মাত্র ১ পিএসআই গ্যাস দিয়ে কোনো মতে কার্যক্রম চালু রেখেছেন।
এসব বিষয়ে নরসিংদীতে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিপণন কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘নরসিংদীতে গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে তার পুরোটাই ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাসের প্রেশার না পাওয়া গেলে এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।’
- বিষয় :
- নরসিংদী