ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বালু ফেলে ৬০ বিঘা ফসলি জমি দখলের পাঁয়তারা

বালু ফেলে ৬০ বিঘা ফসলি জমি দখলের পাঁয়তারা
×

শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বিলশরন গ্রামে কৃষকদের ফসলি জমিতে বালু ভরাট। গতকাল বুধবার তোলা ছবি সমকাল

শিবপুর (নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৯ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের বিলশরন গ্রামে ড্রেজার দিয়ে অন্যের ফসলি জমিতে বালু ভরাট করে দখলের চেষ্টা চলছে। প্রবাসী বাবুল মিয়া বালু ভরাট করে বিলশরন গ্রামের ১৮-২০ জন কৃষকের ৬০ বিঘা জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, বিলশরন গ্রামের মৃত সামসু উদ্দিনের ছেলে বাবুল মিয়া (৩৫) মালয়েশিয়া প্রবাসী। সাত-আট বছর আগে বিলশরন রাস্তার পাশে মোস্তফার জমি দখল করে ‘ওরি ফুডস অ্যান্ড প্যাকেজিং’ কারখানা নির্মাণ করেন। সেই জায়গা নিয়ে এখনও মামলা চলমান। বর্তমানে তাঁর কারখানার পূর্ব-দক্ষিণ পাশে কোনো অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে। এমনকি জমিতে বালু ফেলার আগে মালিকদের একবার জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করেননি। জমির মালিকরা বাবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনাদের জমিতো নিচু জমি। বছরে একটি ফসল পান। তাঁর চেয়ে ভালো জমিগুলো আমার কাছে বিক্রি করে দেন। সন্তোষজনক টাকা পাবেন।’

বালু ভরাটের পর জমিগুলোর চারপাশে দেওয়াল নির্মাণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বাবুল মিয়া। এতে নিজেদের জমি হারানোর শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিনের কাছে গত ১০ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরপর ১৭ আগস্ট ১৮-২০ জন কৃষক উপজেলা পরিষদ মাঠে সংসদ সদস্য মনজুর এলাহীর কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।

জমির মালিকদের মধ্যে রয়েছেন আশরাফপুর গ্রামের কৃষক সায়েম খান, মনজুর হোসেন, আ. বাতেন, বিলশরন গ্রামের মোতালিব, ডা. নুরু খন্দকার ও মোস্তফা। তাদের অভিযোগ, বাবুল তাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে জমিগুলো ভরাট করেন। বাধা অমান্য করেই প্রভাব খাঁটিয়ে জমিতে বালু ফেলে ভরাট করেন এবং জমির টাকা নিতে বলেন। 

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কারখানার মালিক বাবুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনকল রিসিভ করেননি। তবে বাবুলের কারখানার ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন জানান, ইউএনও গত ১৭ আগস্ট তাঁর প্রতিষ্ঠানের মালিককে ডেকেছিলেন। কিন্তু তিনি দেশে নেই, তাঁকে পাঠানো হয়েছে। ইউএনও কৃষকের জমিতে বালু ফেলতে নিষেধ করেছেন এবং এই পর্যন্ত যা ফেলা হয়েছে তা সরিয়ে নিতে বলেছেন। কারখানার মালিক বাবুল মিয়াকে ইউএনওর বক্তব্যগুলো জানানো হয়েছে।

শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিনের ভাষ্য, অভিযোগ পেয়ে কারখানার মালিককে ডাকা হয়েছে। কিন্তু মালিক আসেননি, তাঁর ম্যানেজার এসেছিলেন। কৃষকের জমিতে বালু ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। যে পরিমাণ বালু ফেলা হয়েছে সেগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী বলেন, ‘কৃষকরা বিষয়টি আমাকে বলেছেন। জমির মালিকের অনুমতি ছাড়া বালু ফেলা বা দখল করা যাবে না। এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন  ইউএনও।

আরও পড়ুন

×