ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ‘এমটি রাসি’ ট্র্যাজেডি

হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসই ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ

হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসই ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ
×

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৪৯

হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আরাফাত খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি বুধবার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং এই গ্যাসের সংস্পর্শে শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। অধ্যাপক ইয়াসিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা ও শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত ১১ সদস্যের একটি কমিটিসহ মোট তিনটি কমিটি তদন্ত করছে।

গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এমটি রাসি’ নামে একটি জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। ঘটনাস্থল ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।

অধ্যাপক ইয়াসিন জানিয়েছেন, তদন্তকালে জাহাজটির ট্যাঙ্কের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অতিমাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের সংস্পর্শে এলে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। এমটি রাসি নামে জাহাজটি রিসাইক্লিং করার সময়ও তাই ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

জাহাজটিতে চারটি ট্যাঙ্ক রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ট্যাঙ্কে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ট্যাঙ্কে তখন ব্যালাস্টের পানি বের করার কাজ চলছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যে পানি বের করা হচ্ছিল, সেই পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস আকারে মুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তখন শ্রমিকরা বিষাক্ত এই গ্যাসের সংস্পর্শে আসেন এবং তাতেই তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে জাহাজটির ট্যাঙ্কে থাকা পানির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে জাহাজের সেই পানিতে এই গ্যাস কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং এর ঘনত্ব কত ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজটি পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর। তারাও সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পায়। জাহাজের ট্যাঙ্ক থেকে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে এই গ্যাসের ১০ দশমিক ৮ পিপিএম মাত্রার ঘনত্ব পায়।

বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এএসএম শফিউল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত একটি তদন্ত দল প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অন্য কমিটিগুলোও তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

আরও পড়ুন

×