সিলেটে বিএনপির 'বিদ্রোহী'দের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৪৬
সিলেট বিএনপি পরিবারকে 'দালাল'দের হাত থেকে রক্ষা করার দাবিতে 'বিদ্রোহী'দের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে নগরীর নাইওরপুল এলাকায় দু'পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় এক পুলিশসহ ১৫-২০ জন আহত হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বের করা হয়েছিল এই মিছিল।
এই কমিটি বাতিলের দাবিতে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় চার নেতা ইতিমধ্যে দলের মহাসচিবের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শিগগির বিষয়টি বিবেচনার 'আশ্বাস' দেওয়ায় ওই চার নেতা পদত্যাগের জন্য 'অপেক্ষায়' রয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে এদের সঙ্গে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী গণপদত্যাগ করবেন বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নগরীতে প্রকাশ্যে কোনো মিছিল-সমাবেশের অনুমতি না থাকায় তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, 'পুলিশকে লক্ষ্য করে মিছিল থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে রফিক নামে এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।' তিনি জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর কুমারপাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর মিরাবাজার এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকশ' নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও যুবদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে নেতাকর্মীরা কোনো স্লোগান না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দেওয়া শুরু করলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই মিছিলটি নাইওরপুল পয়েন্টে পৌঁছার পর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে।
সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী দাবি করেছেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নগরীর মিরাবাজার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখী মিছিল শুরু করেছিল। এ সময় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ তাদের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়, লাঠিচার্জ করে। এতে রিনুক আহমদ, মুহিবুর রহমান মুহিন, নুরুল আমিন, রনি আহমদ, সেলিম আহমদ, ইমন আহমদ, মুর্শেদ আলম, জুনেদ আহমদ, সাবের আহমদসহ অর্ধশত আহত হয়।
এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জের পর নেতাকর্মীদের একাংশ নগরীর নয়াসড়কে পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বলে 'বিদ্রোহী'দের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, বিএনপির ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী এজেন্টদের ইশারায় পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে। তারা বলেন, সিলেট বিএনপি এখন দালালদের খপ্পরে। বিভিন্ন পকেট কমিটি গঠনের মাধ্যমে সিলেট বিএনপি পরিবারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বক্তারা অবিলম্বে যুবদলের কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় হাজার হাজার নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে। বক্তৃতা করেন জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিকুর রহমান সাদিক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শাকিল মুর্শেদ, সাবেক তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মতিউল বারী খুর্শেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদুল হক মওদুদ প্রমুখ।
- বিষয় :
- পুলিশের লাঠিচার্জ
- সিলেট বিএনপি
