ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

৩৭ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ বরগুনায়

৩৭ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ বরগুনায়
×

ফাইল ছবি

বরগুনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫২

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জেলার সাড়ে ৯শ' কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণীসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ'শ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে বাঁধ এখনও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি।

এ জন্য বিলীন হয়ে গেছে বহু বসতবাড়ি, গাছপালা এবং কয়েক শ' একর ফসলি জমি। এসব বাঁধ সম্পূর্ণ মেরামত না হতেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার লক্ষাধিক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের দাবি, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এ জেলার বহু মানুষ। রয়েছে প্রাণহানির শঙ্কাও। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাসময় পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেলায় ২২টি পোল্ডারে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৩৭ কিলোমিটার বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি বাঁধও মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকার আজমুল হুদা মিঠু, এনামুল হক বাবুল, শফিকুল ইসলাম শফিক, বেলাল হোসেন, লিয়ন মিয়া জানান, ওই এলাকার ছাদেম বাজার থেকে আয়লা লঞ্চঘাট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা পায়রা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার একর কৃষিজমি, বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে।

নদীভাঙনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বুলবুলের প্রভাবে ৫/৭ ফুট পানি হলে ওই এলাকার কৃষিজমিসহ অসংখ্য বাড়িঘর প্লাবিত হবে। এতে জীবনহানির শঙ্কাও রয়েছে।

আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার আশফাকুর রহমান ফিরোজ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ বিষয়ে একাধিকবার এমপি, ডিসি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বলেও কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে ওই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিতে আছে।

গত ৩ নভেম্বর বরগুনায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা উদ্বোধনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, বেড়িবাঁধ মেরামত একটি চলমান প্রক্রিয়া। পর্যায়ক্রমে সব ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।


আরও পড়ুন

×