ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা কুয়াকাটায়

আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা কুয়াকাটায়
×

সাগর-তীরবর্তী কুয়াকাটা ও মহিপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা শনিবার দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি-ফোকাস বাংলা

বরিশাল ব্যুরো ও কুয়াকাটা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৮:৫৮

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের লেম্বুরচরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ মাঝিবাড়ী পয়েন্টের বাসিন্দা ফোরকান হোসেন। পেশায় জেলে ফোরকান শনিবার দুপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, 'বাড়িঘর ছাইড়্যা আশ্রয়কেন্দ্রে যাইয়া খামু কী? ঘুমামু কই? গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি কই রাইখ্যা যামু?'

প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাত হানার বিষয়ে গত শুক্রবার থেকে সতর্ক করে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও সাগর-তীরবর্তী কুয়াকাটা ও মহিপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা শনিবার দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। কুয়াকাটার মাঝিবাড়ী পয়েন্ট, মাদ্রাসা পয়েন্ট, ধোলাইখাল ও খাজুড়া এলাকা এবং মহিপুরের নিজামপুর, সুদীরপুর ও কমরপুর এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, ঝালকাঠিতে ৭৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

কুয়াকাটা পৌরশহরের মাঝিবাড়ী এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহ আলম জানান, মাঝিবাড়ী পয়েন্টে বন্যারক্ষা বাঁধ ভাঙা। জলোচ্ছ্বাস হলে কয়েকশ' বাড়িঘর ডুবে যাবে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বারবার সতর্ক করা হলেও তারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নন।

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা ও সাগর-তীরবর্তী লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, শনিবার সকাল থেকেই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রচার চালান। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের যে কোনো উপায়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

এদিকে, বুলবুলের কারণে কুয়াকাটার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার এ উৎসব শুরু হওয়ার কথা। রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল বরণ দাস জানান, আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাস উৎসবের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ জন্য রোববার উৎসব কমিটির সভা ডাকা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী কলাপাড়ায় সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাসহ জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুতি সভা করেন। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম শনিবার বিকেলে জানান, কুয়াকাটায় অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। কাউকেই সৈকতে নামতে দেওয়া হচ্ছে না।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য যেসব হোটেলে অতিথি নেই, সেগুলো খোলা রাখা হবে।

ঝালকাঠিতে আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজার মানুষ: ঝালকাঠি ও রাজাপুর প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠি জেলার ৭৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজার ৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার দুপুরের পর থেকে নদীতীরের বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু করেন। রাতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) থেকে জানানো হয়। দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী স্পিডবোট নিয়ে নদীতীরের সাইক্লোন শেল্টারগুলো পরিদর্শন করেন। 

তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জেলায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ১০ লাখ টাকা ও ৩৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর ইউএনও তানিয়া ফেরদৌস উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে শনিবার সকাল থেকেই উপজেলার শাচিলাপুর, চর ভাটারাকান্দা, দক্ষিণ কিস্তাকাঠি এলাকায় গিয়ে নদীতীরের মানুষকে সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে যান। রাজাপুর ইউএনও সোহাগ হাওলাদার দুর্যোগ মোকাবিলায় তার উপজেলায়ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান।

আরও পড়ুন

×