চট্টগ্রামে ৪৭৯ আশ্রয়কেন্দ্র, বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ
নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে-ফোকাস বাংলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৬
ঘূর্ণিঝড় 'বুলবুলের' সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় চট্টগ্রামে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় চার হাজার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উপকূলের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হলেও অনেকে যাচ্ছেন না। স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে সব জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা নিরাপদে রাখা হয়েছে। পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ১৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরসহ আশপাশের এলাকায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। ঝড়ের সতর্কতার কারণে নগরীর সড়কগুলোতে যান চলাচলও কম দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিপদ সংকেত ৯-এ ওঠার পর থেকে উপকূলীয় এলাকা বিশেষ করে সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সচিব ওমর ফারুক বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জেটি থেকে সরিয়ে সব জাহাজকে বহির্নোঙরে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার ইউএনওরা জানিয়েছেন, উপকূল এলাকা থেকে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করছে প্রশাসন।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি টিম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন। উপকূল ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খুলেছে তারা। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশও সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে।
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয় ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা ও উপজেলার সব চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা মেডিকেল কন্ট্রোল রুম (ফোন নম্বর :০৩১-৬৩৪৮৪৩) চালু করা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে একটি, প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ৫টি এবং নগরে ৯টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, ওরস্যালাইন, জরুরি ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ৪২০টি স্কুল ও কলেজ শাখার প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। নগরের আন্দরকিল্লা রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। যে কোনা জরুরি প্রয়োজনে ০১৬৭৫-৬২৮৮৪২, ০১৭৭৪-৭৪২৮৯২ নম্বরে যোগাযোগ করতে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিপিসির প্রস্তুতি: বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও জ্বালানি তেল সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, এলপিজিসহ পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ডিপোগুলোতে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্ত-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শনিবার বিপিসির সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক মো. আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
- বিষয় :
- ঘূর্ণিঝড়
- বুলবুল
- আশ্রয়কেন্দ্র
