পাঠাও চালককে অপহরণের পর সাড়ে ৩ লাখ টাকায় মুক্তি
প্রতীকী ছবি
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৪৭
সীতাকুণ্ডের বারৈয়ারঢালা এলাকার বাসিন্দা দিদারুল আলম। পাঠাও (ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত সোমবার গাড়ি নিয়ে নগরীর ইপিজেড এলাকায় ভাড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পরিচয় দিয়ে তিনজন লোক স্থানীয় ইপিজেড চৌধুরী মার্কেটের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা আরও ৫-৬ জন মিলে তাঁকে মারধরের পর জিম্মি করে। এ সময় তারা ১৫ লাখ টাকা দিদারের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দিদারের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, অপহরণকারীরা দিদারের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা না দিলে দিদারকে মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনদের থেকে টাকা ধার ও বিদেশে থাকা ছেলের পাঠানো টাকা মিলিয়ে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে দিদারকে মুক্ত করেন। যে পাঠাও চালিয়ে দিদার জীবিকা নির্বাহ করতেন অপহরণকারীরা তাও বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেয়।
স্থানীয় পাঠাও চালক মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সন্ধ্যায় তিনজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে দিদারকে মোটরসাইকেলসহ জিম্মি করে নিয়ে যায়। অনেক মারধর করে দিদারের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। সাড়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে তাঁকে ছাড়ে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী দিদারুল আলম বলেন, ইপিজেড মার্কেটের সামনে থাকা সিসি ফুটেজে ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দেখলে বিস্তারিত ঘটনা দেখা যাবে। ওই মার্কেটের দ্বিতীয় এলাকায় খালি একটি জায়গাতে নিয়ে তাঁকে জিম্মি করে টাকা আদায় করে মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী।
তিনি আরও বলেন, ‘সাড়ে তিন লাখ টাকায় জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাই। পরিবারের কাছে টাকা না থাকাতে তারা মোটরসাইকেল বিক্রি করেও মুক্তিপণের টাকা নেয়। পুলিশকে অপহরণের তথ্য জানালে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় অপহরণকারী মেহেদী হাসান ও তাঁর সহযোগীরা।’
অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে মেহেদী হাসান নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করে বলেন, দিদার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর। তাঁকে অপহরণ করা হয়নি। মুক্তিপণের টাকা বিকাশে নেওয়ার তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিকাশে অনেকেই তাঁকে টাকা পাঠায়। কার টাকা তাঁর বিকাশ নম্বরে এসেছে সেটা তিনি জানেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিদার মামলা ও পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে বাঁচতে বিকাশে টাকা পাঠিয়েছে।
সিএমপি ইপিজেড থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাদের জানা নেই। এ রকম কোনো ঘটনার ভুক্তভোগী থানায় আসেনি ও অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।