অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার লক্ষণ থাকলেও চাপ অব্যাহত
লোগো
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৫ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স, ঢাকা (এমসিসিআই) মনে করে, গত প্রান্তিকে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ ছিল। কিন্তু চাপ অব্যাহত রয়েছে, যার কেন্দ্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এমসিসিআই গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের ওপর অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় এমন মত দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্রমান্বয়ে স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গেছে, যদিও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর ছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি উচ্চস্তরে রয়ে গেছে। গত জুনে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।
এমিসিসিআই বলেছে, বাহ্যিক খাত তুলনামূলকভাবে ভালো করেছে। আলোচ্য প্রান্তিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী ছিল এবং জুন শেষে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনে রপ্তানি পরিস্থিতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও গত অর্থবছরে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দুর্বল ছিল। অন্যদিকে উচ্চ সুদের হার এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ, ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা সংকুচিত বা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রাজস্ব বা আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতও চাপের মধ্যে ছিল।
এমসিসিআই মনে করে, সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা এবং বাহ্যিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের অর্থনীতি বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে নির্বাচিত অর্থনৈতিক সূচকগুলোর পারফরম্যান্স মিশ্র দেখা গেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তিন মাসে রপ্তানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স বাড়তে পারে। মূল্যস্ফীতি কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিকভাবে এমসিসিআই মনে করে, গত প্রান্তিকে প্রধানত শক্তিশালী রেমিট্যান্স এবং উন্নত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ভর করে ক্রমান্বয়ে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিফলিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মন্থর বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রপ্তানি পরিস্থিতি, রাজস্ব বা আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এমসিসিআইর মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করতে হলে বেশ কিছু কাঠামোগত বাধা অপসারণ করা জরুরি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার দরকার।