ঘরোয়া ফেসপ্যাকে সুন্দর
গরমে ত্বক ভালো রাখতে শসার ফেসপ্যাক উপকারী মডেল: সারিকা; ছবি: ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
নাহিন আশরাফ
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রকৃতিতে শরতের আবেশ। কখনও মেঘলা দিন, আবার খানিক পরেই কড়া রোদে কাহিল অবস্থা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি, তাই ঘামও হয় প্রচুর। এ ঋতুতে ভ্যাপসা গরম পিছু ছাড়ে না। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে তেলতেলে, ঘামাচ্ছন্ন ও নিষ্প্রাণ। এ আবহাওয়ায় ত্বকের সুস্থতায় ঘরোয়া ফেসপ্যাক হতে পারে কার্যকর সমাধান। সহজলভ্য হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। লিখেছেন নাহিন আশরাফ
শরতে ত্বকের যত্ন নিতে হবে সঠিকভাবে। দামি প্রসাধনী কেনা বা পার্লারে না গিয়েও ঘরে থাকা উপাদান দিয়ে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। ত্বকের ধরন বুঝে অল্প উপকরণ দিয়ে স্বল্প সময়ে বানাতে পারেন ফেসপ্যাক।
শরতের গরমে ত্বকের সমস্যা কেন বাড়ে?
আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের রূপবিশেষজ্ঞ জুলিয়া আজাদ জানান, শরতের আবহাওয়ায় দিনের তাপমাত্রা অনেক সময় খুব বেশি থাকে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে বলে শরীরের মতো মুখের ত্বকেও ঘাম হয়। ঘামের সঙ্গে ত্বকের অতিরিক্ত তেল, ধুলাবালি ও বাইরের ময়লা মিশে ত্বকের ওপর জমে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এ সময় মুখ আরও বেশি তেলতেলে মনে হতে পারে। ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে দেখা দিতে পারে ব্রণ বা ছোট ছোট দানা। আবার অতিরিক্ত ঘাম মুছতে গিয়ে বারবার মুখ ঘষলে ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তিও হতে পারে। তাই শরতের সময় ত্বকের যত্নে সবচেয়ে জরুরি হলো–ত্বক পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সূর্যের তাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্দ্রতা ধরে রাখা।
ঘরোয়া ফেসপ্যাক
মধু ও টক দইয়ের ফেসপ্যাক
শরতের গরমে ত্বক যখন ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ দেখায়, তখন মধু ও টক দই দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি পাত্রে এক টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার মুখে পাতলা করে মিশ্রণটি লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। টক দইয়ে থাকা ল্যাকটিক এসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে মধু ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল, তারা ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
শসার ফেসপ্যাক
ভ্যাপসা গরমে শসা হতে পারে ত্বকের যত্নের সহজ একটি উপাদান। শসা ভালোভাবে ধুয়ে পেস্ট করে মুখে লাগানো যায়। চাইলে এর সঙ্গে সামান্য টক দই মেশানো যেতে পারে। শসায় প্রচুর পানি থাকে। ফলে এটি ত্বকে সাময়িক সতেজতার অনুভূতি দিতে পারে। রোদে বা গরমে বাইরে থেকে ফিরে মুখে ক্লান্ত ভাব থাকলে শসার ঠান্ডা প্যাক বেশ আরামদায়ক।
অ্যালোভেরা জেল
গরমের সময় ত্বকে অস্বস্তি বা শুষ্কতা অনুভূত হলে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন। তাজা অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে পরিষ্কারভাবে প্রস্তুত করা জরুরি। বাজারের তৈরি অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলেও উপাদানগুলোর তালিকা দেখে নেওয়া ভালো। পাতলা করে অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলা যায়। কারও ত্বকে এটি আরামদায়ক ও সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। তবে অ্যালোভেরাতেও কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই প্রথমবার পুরো মুখে ব্যবহার না করে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া নিরাপদ।
বেসন ও টক দইয়ের ফেসপ্যাক
বেসন দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শরতের ভ্যাপসা আবহাওয়ায় মুখ অতিরিক্ত তেলতেলে মনে হলে বেসনের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে প্রয়োজনমতো টক দই মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়ার আগেই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ফেসপ্যাকটি মুখ থেকে ময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করবে। তবে এটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে ঘষে ঘষে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।
ওটস ও দইয়ের ফেসপ্যাক
যাদের ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল, তাদের জন্য শক্ত স্ক্রাবের বদলে তুলনামূলক কোমল উপাদান ব্যবহার করা ভালো। ওটস সামান্য গুঁড়া করে এর সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ওটস ত্বককে শান্ত ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
পাকা কলা ও মধুর ফেসপ্যাক
শরতের গরমে যেমন ত্বক তেলতেলে হতে পারে, তেমনি কারও কারও ত্বকে পানিশূন্যতা বা শুষ্কতার অনুভূতিও হতে পারে। এ ধরনের ত্বকে পাকা কলা ও মধুর ফেসপ্যাক ব্যবহার করা ভালো। একটি পাকা কলা ভালোভাবে চটকে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে লাগানো যায়। এটি ত্বকে আর্দ্রতার অনুভূতি দেবে এবং মুখকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ করবে।
চন্দন ও গোলাপজলের ফেসপ্যাক
অনেকেই চন্দনের গুঁড়া ও গোলাপজল মিশিয়ে ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন। এটি দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশের ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বাজার থেকে কেনা চন্দনের গুঁড়া বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে সেটি ত্বকের জন্য নিরাপদ কিনা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। মিশ্রণটি মুখে পাতলা করে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়ার পর আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে জ্বালা বা চুলকানি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
পরিষ্কার ত্বকই আসল কথা
ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি। বাইরে থেকে ফিরে মুখে জমে থাকা ঘাম, ধুলা ও ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। তবে ত্বক পরিষ্কার করার সময় বেশি ঘষাঘষি করা উচিত নয়। অনেকে মনে করেন, মুখ যত বেশি ঘষে পরিষ্কার করা যাবে তত ভালো। অতিরিক্ত ঘষাঘষি ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই কোমলভাবে মুখ পরিষ্কার করে এরপর ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।
আরও যেসব অভ্যাস জরুরি
শুধু ফেসপ্যাক ব্যবহার করলেই ত্বক ভালো থাকবে বিষয়টি এমন নয়। ত্বকের যত্ন প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাসের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।
পর্যাপ্ত পানি পান
শরতের ভ্যাপসা গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই পানি পান করা জরুরি। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস করুন।
রোদ থেকে ত্বক বাঁচানো
বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ত্বককে সরাসরি সূর্যের আলো থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখা ভালো।
ঘামে ভেজা মুখ আলতোভাবে মুছুন
গরমে মুখে ঘাম হলে রুমাল বা টিস্যু দিয়ে জোরে ঘষে মুছে ফেলা ঠিক নয়। এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। বরং আলতোভাবে চাপ দিয়ে ঘাম শুষে নেওয়া ভালো।
মুখে হাত দেওয়া কমাতে হবে
অফিস, গণপরিবহন কিংবা বাইরে চলাফেরার সময় হাতের মাধ্যমে অনেক ময়লা মুখে চলে যেতে পারে। তাই অকারণে বারবার মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
পর্যাপ্ত ঘুম
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও করতে হয়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ত্বকের জন্যও উপকারী। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
- বিষয় :
- ত্বকের সৌন্দর্য