ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

খাবার সংরক্ষণে কার্যকর কৌশল

খাবার সংরক্ষণে কার্যকর কৌশল
×

খাবার সংরক্ষণে ভালো মানের পাত্র নির্বাচন জরুরি

রোজী আরেফিন 

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী এবং বড় পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রতিদিন রান্না করা এক ধরনের যুদ্ধের মতো। এমন পরিস্থিতিতে একবার রান্না করে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত নিরাপদ ও সুস্বাদু রাখা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।  

খাবার রান্নার পরেই তা দীর্ঘ সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখা যাবে না। খাদ্যবিজ্ঞানের ভাষায় ৫ ডিগ্রি থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যবর্তী তাপমাত্রাকে ডেঞ্জার জোন বলা হয়, যেখানে ব্যাকটেরিয়া সবচেয়ে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। কাজেই রান্না শেষ হওয়ার পর বড় পাত্রে খাবার ঢেকে না রেখে ছড়িয়ে রাখুন; যাতে দ্রুত বাষ্প ও তাপ বেরিয়ে যায়। খাবার কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার সর্বোচ্চ দুই-এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। কোনোভাবেই খুব বেশি গরম খাবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখবেন না।
খাবার কত দিন ভালো থাকবে তা নির্ভর করে আপনি কেমন পাত্র ব্যবহার করছেন এবং কীভাবে রাখছেন তার ওপর। সবসময় ভালো মানের কাচ বা ফুড-গ্রেড প্লাস্টিকের এয়ারটাইট বক্স ব্যবহার করুন; যাতে বাতাস বা বাইরের আর্দ্রতা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। পুরো হাঁড়ির খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে রাখবেন না। দুই-তিন দিনের জন্য খাবার ভাগ করে আলাদা ছোট বক্সে রাখুন। এতে বারবার পুরো খাবার ফ্রিজ থেকে বের করতে হবে না এবং শুধু যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গরম করা সম্ভব হবে। 
সব খাবার সাধারণ ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে ২-৩ দিন রাখা নিরাপদ নয়। তাই কোন খাবার কোথায় কীভাবে রাখবেন সেটি জানা অত্যন্ত জরুরি। 

মাংস, রোস্ট ও কষা তরকারি
এ খাবারগুলোয় পানির পরিমাণ কম এবং মসলা ও তেল বেশি থাকে, যা প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে। এগুলো ডিপ ফ্রিজে রাখলে অনায়াসে তিন থেকে পাঁচ দিন বা তার বেশি সময় ভালো থাকে। খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে নামিয়ে নরমাল ফ্রিজে রেখে বরফ গলিয়ে তারপর গরম করতে হবে। 

মাছ ও ঝোল তরকারি
মাছের তরকারি নরমাল ফ্রিজে এক দিনের বেশি না রাখাই ভালো। দুই-তিন দিন রাখতে হলে মাছ আলাদা করে বা হালকা কষিয়ে ডিপ ফ্রিজে রাখতে পারেন। পাতলা ঝোল তরকারি দ্রুত নষ্ট হয়, তাই ঝোল রান্নার সময় একটু ঘন করে রান্না করা ভালো। 

ডাল ও শাকসবজি
ডাল এবং বিশেষ করে সবুজ শাক নরমাল ফ্রিজে রাখলে দ্রুত টক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডাল সংরক্ষণ করতে হলে তা ফুটিয়ে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে ডিপ ফ্রিজে রাখতে পারেন। তবে শাক এক দিনের বেশি সংরক্ষণ না করাই স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। 

ভাত ও পোলাও
ভাত বা পোলাও রান্না করার পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই এয়ারটাইট বক্সে ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে দুই থেকে তিন দিন ভালো থাকে। খাওয়ার সময় সামান্য পানি ছিটিয়ে ঢেকে ভাপিয়ে নিলে এগুলো একদম ঝরঝরে ও ফ্রেশ হয়ে যায়। 

আটার রুটি 
রুটি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো আংশিক সেঁকে রাখা। আটা বা ময়দা বেলে তাওয়ায় এপিঠ-ওপিঠ হালকা ভাপ দিয়ে ঠান্ডা করে জিপলক ব্যাগে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিলে যখন প্রয়োজন তখন নামিয়ে সেঁকে নেওয়া যায়। 

তরল দুধ 
তরল দুধ জ্বাল দিয়ে সাধারণ ফ্রিজে রাখলে বড়জোর এক থেকে দুই দিন ভালো থাকে। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দুধ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে জ্বাল দিয়ে মাওয়া বানিয়ে রাখা কিংবা প্রয়োজনমতো গুঁড়া দুধ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। 

শিশু ও বয়স্কদের খাবার
শিশুকে খিচুড়ি বা খাবার সবসময় টাটকা খাওয়ানোই সবচেয়ে ভালো। একান্তই এককালীন রান্না করতে হলে তা আলাদা ছোট পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনোভাবেই বারবার গরম করা যাবে না। অন্যদিকে বয়স্কদের খাবারে অতিরিক্ত তেল-মসলা না থাকায় সেগুলো সাধারণ ফ্রিজে খুব দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই তাদের নরম খাবার পরিমিত পরিমাণে রান্না করে ডিপ ফ্রিজে ছোট ভাগে সংরক্ষণ করা এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে ফুটিয়ে নেওয়া জরুরি। 
এ ছাড়া ছুটির দিনে বা যখন গ্যাস থাকে, তখন একসঙ্গে পেঁয়াজ বেরেস্তা, আদা-রসুন বাটা এবং পেঁয়াজ-টমেটোর গ্রেভি বা মসলা কষিয়ে বক্সে বা আইস কিউব ট্রেতে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। রান্নার সময় শুধু মসলাটুকু বের করে তরকারি বসিয়ে দিলে গ্যাসের সাশ্রয় হয় এবং সময়ও বাঁচে। পাশাপাশি মাছ ও মাংস ধুয়ে পরিষ্কার করে আদা, রসুন, হলুদ ও লেবুর রস দিয়ে ম্যারিনেট করে জিপলক ব্যাগে ফ্ল্যাট করে ফ্রিজে রেখে দিন। রান্নার আগে শুধু প্যানে বসিয়ে দিলেই দ্রুত রান্না শেষ হবে। 
 

আরও পড়ুন

×