ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ, দাকোপে হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ, দাকোপে হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
×

ফাইল ছবি

মোংলা ও দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২০

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সব প্রস্তুতি নিয়েছে দাকোপ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ লক্ষ্যে ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি মসজিদ, মন্দির, গির্জা থেকে মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছে। 

এ ছাড়া স্থানীয় নদনদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বেড়ে যাওয়ায় নৌযানগুলোকে নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মোংলা বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জারি করা হয় বিশেষ সতর্কতা। এরই মধ্যে পশুর নদ ও মোংলা নদীতে অবস্থানরত নৌযানগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন্দরসহ আশপাশ এলাকা গত শুক্রবার থেকে বিদ্যুৎহীন রয়েছে। এতে জরুরি দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

দাকোপ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষে থেকে জরুরি বরাদ্দ হিসেবে নগদ টাকা, শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও কোস্টগার্ডের কয়েকটি জাহাজ।

চালনা মাসুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধ শফি পাটোয়ারী বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে এসে সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি।

উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, মাইকিং করে লোকজনকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২-৩ জন আশ্রয় নিয়েছে।

নদীর জোয়ারের তোড়ে বিভিন্ন স্থানে ওয়াপদার বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো রক্ষার জন্য জিও ব্যাগ ও মাটি ফেলা হচ্ছে। 

ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে ৩৫-৪০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন। সন্ধ্যা নাগাদ লাখের ওপরে আশ্রয় নিতে পারেন।

মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ: বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর থেকেই মোংলা উপজেলা ও পৌরসভার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর থেকে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন জানান, মহাবিপদ সংকেত জারির পর থেকে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বড় বড় বিভিন্ন স্থাপনার ওপরও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ পৃথক কন্ট্রোল রুম খুলেছে। ইউএনও রাহাত মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের শংকায় উপজেলার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় না এলে সবাইকে জোর করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

এদিকে সুন্দরবনে মৎস্যজীবীদের বৃহৎ সংগঠন দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বুলবুলের প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলসহ সংলগ্ন নদনদীগুলো খুবই উত্তাল রয়েছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। দুবলার চরের জেলেদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×