রংপুরে ৪ খুন
গাফিলতির সুযোগ নেই, আশ্বাস নতুন পুলিশ কশিনারের
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৭
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নতুন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ। শুক্রবার দুপুরে তিনি নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতির সেই বাড়িতে যান।
পরিদর্শন শেষে মাহবুবুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর। মামলাটি নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা চলছে। এটি নিয়ে গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই। সংগৃহীত আলামত পাঠানো হবে ফরেনসিক ল্যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত চলমান থাকায় নানা ধরনের তথ্য ও বক্তব্য সামনে আসতে পারে। তবে তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ কমিশনার আরও জানান, অনেকে অভিযোগ করছেন, আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হচ্ছে বা হয়েছে। সত্যি বলতে, ঘটনাস্থলের কোনো আলামত ধুয়েমুছে ফেলা হয়নি। মরদেহ উদ্ধারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার দুই তরুণের মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাদকের এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
গ্রেপ্তার দুই তরুণ একে একে চারজনকে হত্যা করেছেন, পুলিশের এই ভাষ্যে আস্থা রাখতে পারছেন না গণপতির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, এর পেছনে বড় কোনো শক্তির হাত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্তের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ গত বৃহস্পতিবার রংপুরের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
গণপতি চক্রবর্তী ২০১০ সালের দিকে মাছুয়াপাড়ায় জমি কেনেন এবং বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন ২০২৩ সালের দিকে। সম্প্রতি দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। গত শনিবার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহ একই এলাকার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এই দুই তরুণ। অবশ্য পরে আবার পুলিশের পক্ষ থেকে দুই আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলা হয়, চারজনকে হত্যা করা হয় শুক্রবার সকালে। হত্যার স্থান ও কারণ নিয়ে পুলিশ দুই ধরনের ভাষ্য দেয়। এতে জনমনে সন্দেহ আরও বাড়ে।
সনাতনী জাগরণ জোটের মানববন্ধন
রংপুর নগরীর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় তদন্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। তারা বলেন, এটি হয়তো পেশাদার খুনির কাজ। শুধু মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে দুই তরুণের পক্ষে একটি পরিবারের চারজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তাই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
- বিষয় :
- রংপুর
- পুলিশ কমিশনার