ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জব্দকৃত বালু ঘের দিয়ে বিক্রির অভিযোগ

জব্দকৃত বালু ঘের দিয়ে বিক্রির অভিযোগ
×

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

নবীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকার বিতর্কিত ব্যক্তি কাসিম আহমেদ। অভিযোগ রয়েছে কাসিম ও তাঁর অনুসারীরা বিভিন্ন অপকর্মের হোতা। সম্প্রতি তিনি ইতালি প্রবাসী। তাঁর লোকজন বিভিন্ন অপকর্ম, অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড়ি এলাকায় গাছ চুরি এবং পাহাড়-টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে জব্দকৃত বালু জোর করে বাঁশের বেড়া বা বেষ্টনী দিয়ে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাদের জোরে তাদের এসব অপকর্ম চলমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, কাসিমের ইয়াবা ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে সাতনাইল গ্রামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে পঙ্গু করা হয়েছে। সে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কাসিমের বিশাল বাহিনী রয়েছে যে প্রতিবাদ করবে তার ওপর হামলা করা হবে।
একাধিক মামলার আসামি ওই কাসিম পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে আত্মগোপনে থেকে দেশত্যাগ করে। এর আগে যৌথ বাহিনীর 
অভিযানে কাসিমের বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী এই শাহ কাসিম আহমেদ। দীর্ঘদিন নবীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকা দিনার পাহাড়ে-টিলা কাটা ও অবৈধ বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন তিনি ও তাঁর লোকজন।

জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের পানিউমদা বাজারের কাছে অবৈধভাবে সরকারি জায়গা থেকে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে ঘুঙ্গিয়াজুড়ি হাওড়ের খাস জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে জমা করে আসছিলেন। খবর পেয়ে গত ৩ আগস্ট সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকরা গেলে তিনি বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। পরে নাটক সাজানো হয় চাঁদাবাজির।
এদিকে গত ৩ আগস্ট পানিউমদা বাজারের নিকট অবৈধ বালুমহালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন অভিযান চালান। অবৈধ বালু ব্যবসায়ী শাহ কাসিম আহমেদ গংদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপে লন্ডন প্রবাসীর জায়গায় রাখা সরকারি জায়গার অবৈধ বালু জব্দ করা হয়নি। ফলে এলাকার মানুষ দাবি জানান যেখানে অবৈধ বালুর জন্য জরিমানা করা হলো সেটি কেন জব্দ করা হলো না।

গত শুক্রবার সরেজমিন এই বালুমহালে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কাসিম গংরা আবার সরকারিভাবে জব্দ করা বালুমহালে বাঁশের বেড়া দিয়ে রেখেছে। এখান থেকে তারা বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রির পাঁয়তারা করছে। রুহেল আহমেদ নামের একজন বলেন, এসব লিখে কী হবে, সরকারিভাবে এখানে বালু জব্দ করা হলো। ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো কিন্তু বালুমহাল দখল করে বালু বিক্রি চলছে।
সাতনাইল গ্রামের রুকাইয়া (ছদ্ম নামে) বলেন, কাসিম গংরা দীর্ঘদিন শুধু অবৈধভাবে বালু তুলছে না, তারা পাহাড়, টিলা কাটা, লাল মাটি বিক্রির সঙ্গেও জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনেকে আক্রমণের শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহ কাসিম আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানা যায়, তিনি ইতালি চলে গেছেন, তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা এটা পরিচালনা করছেন। তবে তারা কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত ব্যবস্থা নেবেন। সরকারি জায়গার বালু তুলে কেউ বিক্রি করতে পারেন না।

আরও পড়ুন

×