ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফোন চুরি ও ক্লিনিকে সিরিয়াল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৯০ জন

ফোন চুরি ও ক্লিনিকে সিরিয়াল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৯০ জন
×

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের মূল সড়কের ওপর গতকাল শনিবার দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালীন মুহূর্ত সমকাল

সুনামগঞ্জ ও ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলায় পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ঘরে সিঁধ কেটে মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম নৈনগাঁওয়ের জব্বর আলীর বাড়িতে সিঁধ কেটে চোর ঢোকে। চোরেরা জব্বর আলীর পরিবারের সদস্যদের তিনটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামের আব্দুল মছব্বিরের ছেলে শালিনকে সন্দেহজনক ধরে এনে মারধর করে পুলিশে দেয় আব্দুল মছব্বিরের লোকজন। পুলিশ মোবাইল ফোন চুরির বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়ায় ইয়াবা সেবনের মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে শালিনকে।
একই ঘটনায় শনিবার বেলা ১১টায় জব্বর আলীর চাচা রফিক আলী, ছেলে আলামিন যায় আব্দুল মছব্বিরের ভাই সেলিম আহমেদকে ধরে আনতে। সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে সেলিম আহমেদকে রামদা দিয়ে কোপানো হয়। এ সময় সেলিমের পক্ষ নেয় মহল্লাবাসী। অবশেষে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষস্থল থেকে পুলিশ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

দোয়ারাবাজার থানার ওসি তারিকুল ইসলাম তালুকদার জানালেন, ঘটনার পরপর পুলিশ যাওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জনের মতো আহত হয়েছে বলে জানান তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি।
এদিকে ছাতকে দুই মহল্লাবাসীর সংঘর্ষে পুলিশসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে দুই মহল্লাবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পৌরসভার হাসপাতাল রোড (মণ্ডলভোগ) ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই মহল্লাবাসীর ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সায়মন মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কয়েছ মিয়া, আইনুল হক, সোহাগ মিয়া, আল আমিন ও সাইফ উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট-সংলগ্ন এক  ফার্মেসিতে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মো. হেদায়েত হোসেন নিয়মিত রোগী দেখেন। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে রোগীর সিরিয়াল লেখানো নিয়ে চিকিৎসকের সহকারী মণ্ডলভোগের অনিক আহমেদ ও মোগলপাড়ার তহমিনা আক্তারের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ওই ঘটনার জেরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই মহল্লাবাসীর লোকজন ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে সরকারি হাসপাতাল রোড ও মোগলপাড়ার মধ্যবর্তী পাকা সড়কের ওপর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন আলো জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা নারী, শিশু, হাসপাতালে অবস্থানরত রোগীর স্বজনসহ হাসপাতালের লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনকে সিলেট, ৬২ জনকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। শেষ পর্যায়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে সাবেক পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুজন, থানার উপপরিদর্শক মো. রোবেল মিয়াসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মো. মুরসালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মহন্ত সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। 

আরও পড়ুন

×