ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্রুণ হত্যায় মামলার পর ফের হামলা, আটক ১

ভ্রুণ হত্যায় মামলার পর ফের হামলা, আটক ১
×

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদাদাতা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর ও গর্ভপাতের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাঁর ওপর ফের হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের মুদাফৎথানা (বেলেরভিটা) হরিণের বন্দ এলাকায় বিপ্লব মিয়ার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ওই পরিবারের ওপর তিন দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিপ্লব মিয়া উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে বিপ্লব মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আনু বেগমকে মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা জিয়াদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিয়াদুল উলিপুর উপজেলার কাজিরচর এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে। হামলাকারীদের পার্শ্ববর্তী উলিপুর থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিপ্লব মিয়ার পরিবারের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী শামীম মিয়ার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ আগস্ট প্রথম দফা এবং ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে দ্বিতীয় দফায় তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফার হামলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা আনু বেগমকে মারধর করা হলে তাঁর গর্ভপাত হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় বসতঘরে আগুন দেওয়া, টাকা লুট এবং বিপ্লব মিয়াকে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার থানায় ভ্রুণ হত্যার মামলা হয়।

ভুক্তভোগী বিপ্লব মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার পরদিনই (গতকাল) আমাদের ওপর আবার হামলা হয়েছে। আমি ও আমার স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে না এলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একই পরিবারের ওপর বারবার হামলার অভিযোগ উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযুক্ত শামীম মিয়া বলেন, কিছুদিন আগে সালিশের মাধ্যমে বাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা নিতে আমার ৫-৬ জন ছেলে সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু বিপ্লবের পরিবারের লোকজন মব সৃষ্টি করে। এ সময় আমার এক ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। বাড়ি ভাঙতে যাওয়া বা মারধর করার বিষয়টি সত্য নয়। চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, হামলাকারীদের একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক যুবককে ভ্রুণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন

×