লেক ভরাট করে রাস্তা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের পাশের লেকে গড়ে তোলা রাস্তা। ছবি গতকালের। ছবি: সমকাল
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৭
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি জায়গায় দখলে নিয়ে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে খান আছাবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম নামে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। ওই অবৈধ স্থাপনায় যেতে সম্প্রতি উপজেলার আনসার-ভিডিপি অফিস-সংলগ্ন সরকারি লেকে বাঁধ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ব্যক্তিগত রাস্তা। এতে সরকারি জমি বেদখলের পাশাপাশি লেকে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ায় একটি সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ঘেঁষে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়। পরিষদের পূর্ব পাশে আনসার-ভিডিপি, শিল্পকলা একাডেমি, নির্বাচন অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা ও মৎস্য অফিসের কার্যালয়। এসব কার্যালয়ের পেছনে উপজেলা পরিষদের প্রায় ১০ শতাংশ এবং সরকারি লেকের পাঁচ শতাংশ জমি দখলে নিয়েছেন আছাবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেন এই দুই যুবক। ওই স্থাপনায় যেতে মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপদের (সওজের) মালিকানাধীন লেকের একটি অংশ ভরাট করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করেছেন তারা। এতে লেকটি বিভক্ত হয়ে পৃথক দুটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া লেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে উপজেলা পরিষদসহ আশপাশের সরকারি বাসা বাড়ি পানির উঠান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
মহাসড়ক ঘেঁষে সরকারি উপজেলা পরিষদের নাকের ডোগায় কীভাবে এমন অবৈধ কাজ চলছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. খালেক শেখ ও আব্দুর রহিম বলেন, ‘সবাই দেখছে সরকারি জায়গা দখল ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে সরকারি লেকে রাস্তা বানানো হচ্ছে। অজ্ঞাত কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা দুজন শিক্ষক বলেন, উপজেলা পরিষদ এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত করতে লেক ভরাট ও সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
লেক ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে খান আছাবুর রহমান বলেন, তাঁরা উপজেলা পরিষদের সরকারি জমি দখলে নেননি। তবে সাময়িক যাতায়াতের জন্য লেকটির পূর্ব অংশে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা ভূমি অফিসের সদ্য বদলি হওয়া সার্ভেয়ার মো. মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়ের পেছনে উপজেলা পরিষদের ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। সেটি দখলে নিয়ে সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে সরকারি লেকে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উচ্ছেদ করে সরকারি সম্পদ উদ্ধার করা জরুরি।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার সমকালকে বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। ইতোমধ্যে অবৈধ দখলদারদের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা এবং লেকের বাঁধও দ্রুতই অপসারণ করা হবে।
- বিষয় :
- খুলনা