রিফাতের লাশের অপেক্ষায় পরিবার, মায়ের কবরের পাশে দাফন
ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনা
রিফাতের বাবা আসাদুল হক
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩২ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনা সদস্য সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের (২৯) মরদেহের অপেক্ষায় রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামের বাড়ির স্বজনরা। সকাল থেকেই বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের মানুষ। শোকে নির্বাক বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার সকালে দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িজুড়ে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বুধবার দুপুরে রিফাতের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই চলছে কান্নাকাটি।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রিফাতের মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে কর্মরত ছিলেন।
রিফাতের মৃত্যুর শোক আরও গভীর করে তুলেছে এক বছর আগের মায়ের মৃত্যু। প্রায় এক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর মা। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি আবারও শোকে ডুবে গেল।

চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বড় ভাই এবি মাহমুদ দীপ্ত এবং ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বিশাল। আকস্মিক এ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। স্ত্রী ও কন্যাসন্তানকে নিয়ে রিফাত চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন।
রিফাতের বাবা আসাদুল হক বলেন, ‘গত কোরবানির ছুটিতে সে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ হতো। দুপুরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিন্দারামপুর জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে রিফাতের মরদেহ রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে নেওয়া হবে। সেখান থেকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। এরপর জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
- বিষয় :
- রাজশাহী
- সেনা সদস্য
- নিহত দুই
- চট্টগ্রাম