ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৫ ট্রান্সফরমার চুরি

ইন্সপেক্টর কামরুল ওসির দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ও অদক্ষ: আদালত

ইন্সপেক্টর কামরুল ওসির দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ও অদক্ষ: আদালত
×

প্রতীকী ছবি

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫৫ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে সাড়ে তিন মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওসির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ এবং আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একই আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর রুজুর জন্য ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে থানায় মামলা রুজুর আবেদন করেন। এসব আবেদনের মধ্যে ২৩টি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করায় ওসি কামরুল হাসানকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিয়ে অব্যাহতি চান।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ওসি তাঁর জবাবে স্বীকার করেছেন যে এফআইআর রুজুর আবেদনগুলো তিনি পেয়েছিলেন। তবে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এজাহারে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক বলেও জবাবে উল্লেখ করেন।

তবে আদালত নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ ও চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল। ওসি ঘটনাস্থল ও সময় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে যে তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছেন, সেটিও সঠিক নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, গত ১ মে থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি স্মারকের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা রুজুর আবেদন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। কিন্তু ৪ আগস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে দুটি ঘটনায় আদেশ দিয়ে প্রতিবেদন চাওয়া পর্যন্ত কোনো মামলা রুজু করেননি ওসি। এরপরও অবশিষ্ট ২৩টি আবেদনের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর আগ পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

আদালত মন্তব্য করেন, ট্রান্সফরমার চুরির মতো আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরও ওসি কোনো এফআইআর করেননি। এমনকি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করা হয়নি। ওসির এ নিষ্ক্রিয়তা পল্লী বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ চুরির পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়ে সরকারের প্রতি জনরোষ সৃষ্টিরও সুযোগ তৈরি করেছে।

আদালত আরও বলেন, আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পাওয়ার পরও এফআইআর না করে ওসি Police Regulation of Bengal-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৫৪ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন। তাঁর এমন নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলা দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬৬ ও ২১৭ এবং The Police Act, 1861-এর ২৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আদেশে বলা হয়, ‘নিষ্ক্রিয়, উদাসীন ও দায়িত্বে অবহেলাকারী’ ব্যক্তি থানার ওসির মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও অদক্ষ—বিষয়টি আদালতের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক বলেন, আদালতের আদেশ এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছেনি। আদেশ হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’

আরও পড়ুন

×